মৃতপ্রায় নদ-নদী

 মৃতপ্রায় নদ-নদী

আমাদের দেশে সুদূর অতীত থেকে নৌপথই ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। শত শত নদীবেষ্টিত এ ভূ-খন্ডে বিশাল বিশাল পালটানা জাহাজ প্রবেশ করতো। অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য পরিবহণ হতো নৌপথেই। জাহাজ, নৌকা, স্টিমার, লঞ্চযোগে পরিবহণের বিকল্প অন্য কোনো উপায় ছিল না। নদীপথে চলাচলে খরচ কম। ভারতের আসাম থেকে কলকাতা বন্দরে যেত ভারতীয় নৌযান এই নদীপথেই। কিন্তু এখন আমাদের নদ-নদীগুলো ক্রমেই শুকিয়ে যাচ্ছে। দিন দিন হয়ে পড়ছে মৃতপ্রায়। নদী মাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলো কালের বিবর্তনে মরাখালে পরিণত হচ্ছে। হারিয়ে যেতে বসেছে নদীগুলোর অস্তিত্ব। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীর সংখ্যা ৩১০টি।

এর মধ্যে ৯৭টি মৃতপ্রায়। বর্ষাকালের দু’মাস যেসব নদীতে পানি থাকে, সেগুলোকেও নদীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। নদ-নদীর অবস্থান ক্ষেত্রে ধরে দেশকে ছয়টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ৫১টি নদী মৃতপ্রায়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মৃত প্রায় নদী রয়েছে ২৭টি, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই সংখ্যা ১৯টি। স্থবিরতায় আক্রান্ত নদীগুলোর বুকে স্রোত ফেরানোর কোনো উদ্যোগ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, বেশির ভাগ নদীরই ভারতীয় অংশে উজানে বাঁধ দেওয়ার কারণে পানি প্রবাহ কমে গেছে। আমাদের দেশে ফসল রক্ষার জন্য অবৈজ্ঞানিকভাবে বহু নদীতে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, এটা অভ্যন্তরের নদী শুকিয়ে যাওয়ার আর একটি কারণ। এই বাঁধগুলো অপসারণ করতে হবে, নিয়মিত নদী ড্রেজিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। আর ভারতকে অসম দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে আসতে হবে।