মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি

 মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। আগামী দিনগুলোতে দেশের ভেতরে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মূল্যের উর্ধ্বগতি এবং প্রতিবেশি দেশগুলোতে উর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি ও নেতিবাচক প্রভাবের কারণেই মূলত এমন আশঙ্কা করছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা। গত বছরের এপ্রিলে হাওরাঞ্চলের আগাম বন্যার কারণে আঘাত আসে বোরো ধানের ওপর। স্থানীয়দের হিসাবে, বন্যায় ১৬ লাখ টন ধানের ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, ক্ষতি হয়েছে সাড়ে ৯ লাখ টন বোরো ধান। তবে ক্ষতি যা-ই হোক হাওর অঞ্চলের আগাম বন্যার কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে ২০১৭ সালে। এ সময় চালের দাম কেজিতে ৭০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। বাজার হয়েছে অস্থির যা এখনো অব্যাহত আছে।

 চাল আমদানি, শুল্কহার প্রায় শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা, খোলা বাজারে কম দামে সরকারি চাল বিক্রি সহ চালের বাজার স্বাভাবিক রাখতে সরকারের নানামুখী ইতিবাচক পদক্ষেপও বাজারে প্রভাবে ফেলতে পারেনি। কথিত চালের সিন্ডিকেট-ই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এখনও। চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি যে বেড়েছে সেটি স্বীকারও করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এই তিনমাসে ধারাবাহিকভাবে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। তবে আশার কথা গত অক্টোবরের দিকে এসে মূল্যস্ফীতির হার কমতে শুরু করেছে। সরকারের বাজেটে চার বছরে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচে রাখার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের উপরই রয়েছে। কাজেই মেঘ দেখে যাত্রা পথ ঠিক করতে সরকারকে এখনই নতুন ভাবনা চিন্তা ঠিক করতে হবে।