মরণঘাতী দূষণ

 মরণঘাতী দূষণ

পরিবেশ দূষণের কারণে বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। শুধু শহর অঞ্চলে দূষণের কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশের প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। মানুষের জীবনে এই ক্ষতির হিসাব আরও ভয়াবহ। দূষণের কারণে কেবল ২০১৫ সালেই মারা গেছে আরও ৮০ হাজার মানুষ, যা সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ১০ গুণ। বিশ্বব্যাংকের করা বাংলাদেশ পরিবেশ সমীক্ষা ২০১৮-তে এ চিত্র উঠে এসেছে। এর প্রতিবেদনটি গত রোববার প্রকাশ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সরকারের পরিবেশ বিষয়ক নীতি নির্ধারণ ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ২০০৬ সালের পর বিশ্বব্যাংকে এই পরিবেশ সমীক্ষাটি করল। তবে এবারের প্রধান বিষয় ছিল শহরের দূষণ। মূলত শহরের বায়ুতে ক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম ২.৫ এর পরিমাণ, ঘরের ভেতরের বায়ুতে দূষণের মাত্রা, পানি দূষণ, স্যানিটেশন ও কর্মক্ষেত্রে দূষণকে সূচক হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের একটি গবেষক দল ওই পরীক্ষাটি করেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে নেওয়া তথ্যকে আমলে নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরী করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে ২০১৫ সালে মোট মৃত্যুর ১৬ শতাংশের কারণ পরিবেশ দূষণ ও বিপর্যয়। বাংলাদেশে এই হার ২৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ। দেশের শহরগুলোতে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ শিসা দূষণের ঝুঁকিতে বসবাস করছে, যাদের বেশির ভাগই শিশু। এ দূষণের কারণে তাদের মেধা ও বুদ্ধিমত্তার ক্ষতি হচ্ছে। গর্ভাবস্থায় শিশু মৃত্যুর হার বাড়ছে। এসব শিশুর বেশির ভাগ দরিদ্র এবং তারা বস্তি এলাকায় বসবাস করে। বসতি এলাকায় ফেলে দেওয়া পরিত্যক্ত ব্যাটারিসহ শিল্প বর্জ্যরে কারণে ওই দূষণ ঘটছে। বায়ুদূষণ যে দীর্ঘ স্থায়ী নানা রোগ ও অসুস্থতার কারণ-তা জানা থাকলেও এটি মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দেওয়ার বিষয়টি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে। অথচ একটু সতর্ক হলেই বায়ুদূষণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। পরিবেশদূষণ রোধে আমাদের আইন রয়েছে কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগ কম। আমরা চাই, উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের সুস্থতা রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হোক।