ভয়াবহ বায়ু দূষণ

 ভয়াবহ বায়ু দূষণ

বিশ্বের যেসব দেশের বায়ু ভয়াবহ দূষণের শিকার বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। নদ-নদী ও সবুজের সমারোহে ভরা দেশের এই বৈসাদৃশ্য নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক। কয়েকদিন আগে নয়াদিল্লিকে টপকে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় এক নম্বরে চলে এসেছে ঢাকা। আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। বায়ু দূষণ স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি। প্রতি দশ জনের নয়জনই এখন বিষাক্ত বায়ুতে আক্রান্ত। ফুসফুস, হৃৎপিন্ড ও মস্তিষ্কজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর ৭০ লাখের মতো মানুষ মারা যাচ্ছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউ এইচও)। জলবায়ু পরিবর্তনকে এ বছরের বিশ্বের শীর্ষ হুমকি হিসেবে দেখছে ডব্লিউএইচও।

এক প্রতিবেদনে চলতি ২০১৯ সালে পৃথিবীর জন্য ১০টি হুমকির তালিকা প্রকাশ করে সংস্থাটি। বিশ্ব ব্যাংকের সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বায়ু দূষণের ৫৮ শতাংশের উৎস মহানগরীর আশে পাশের স্থাপিত ইটভাটা। বাকি দূষণ আসে রাস্তাঘাটের ধুলা, মোটর গাড়ি ও কারখানা থেকে। পরিবেশবিদদের মতে, ঢাকার চারপাশে থাকা ইটভাটা ও শিল্প কারখানা এবং পুরনো মোটর গাড়ি থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া এবং যত্রতত্র খোলা ডাস্টবিন বায়ু দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি করছে। ধুলিময় ঢাকার এখন প্রাণভরে শ্বাস নেওয়াই সম্ভব হয় না। বায়ু দূষণের অশুভ প্রতিক্রিয়ায় মানুষ প্রতিনিয়ত শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ফুসফুস ক্যান্সার ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বায়ু দূষণ রাজধানীর দেড়কোটি মানুষের অস্তিত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। নিজেদের স্বার্থেই এ বিপদ মোকাবিলায় ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। আর তা না হলে বড় বিপদ যে অবশ্যম্ভাবী, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।