ভেজাল রোধে কঠোর হতে হবে

 ভেজাল রোধে কঠোর হতে হবে

দেশের গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় খাদ্য দ্রব্যে ভেজালের যে চিত্র উঠে আসে তা উদ্বেগজনক। এর আগে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে মোট ৫ হাজার ৮১২টি নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে এর মধ্যে ৩ হাজার ১৪৭টি পণ্যই ছিল ভেজাল। শতকরা হিসাবে যা ৫৪ শতাংশের বেশি। গম, ডাল, চিনি, লবণ, দুধ, তেল, ঘি, মাখন, কেক, মিষ্টি, দই থেকে শুরু করে এমন কোন খাদ্যদ্রব্য খুঁজে পাওয়া কঠিন, যা ভেজাল মিশ্রিত নয়। একদিকে ভেজাল, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। বাজার থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতা। অন্যদিকে মানের বিষয়েও নিশ্চিত হতে পারছেন না ক্রেতা একদিকে বাজারে নিত্য পণ্যের দাম আকাশ ছুঁতে চাইছে,  অন্যদিকে প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে। নানা ধরনের রাসায়নিক। খাদ্য দ্রব্যে যে শুধু ভেজাল মেশানো হচ্ছে তা ই নয়, যেসব কারখানায় এ গুলি তৈরি করা হয় সেগুলোর অধিকাংশের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর, আবর্জনা ও পুতি গন্ধময়। খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত পানিও নোংরা ও দূষিত। তদুপরি অনেক খাদ্য দ্রব্য রাখা হয় খোলা আকাশের নিচে।

 চারদিকে বস্তি ও নোংরা আবর্জনা পূর্ণ পরিবেশে। স্বল্প পুঁজির এসব কারখানার মালিক মূলত সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ী। যেনতেন ভাবে খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত করে বাজারজাত করাই তাদের লক্ষ্য বাজারের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে মোড়কজাত করা হয় নামিদামি কোম্পানির নামে। এর গুণগত মান নিয়ে তাদের আদৌ কোন মাথা ব্যথা নেই। অথচ খাদ্যদ্রব্য ভেজাল এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ফরমালিন সহ জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল। ফলমূল সহ শাক-সব্জি সবখানেই কেমিক্যাল।

 ফল রঙিন করতে বিষাক্ত কেমিক্যাল দেয়া হচ্ছে, শাক-সব্জি, ফল তাজা রাখার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকারক রাসায়নিক। বাজার থেকে কিনে আনা ফল মাসাধিককাল ফ্রিজের বাইরে থাকলেও নষ্ট হচ্ছে না। আহার্য সামগ্রী আকর্ষণীয় করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে টেক্সটাইলের রঙ। এর সঙ্গে পোড়া তেল মবিল তো রয়েছেই। দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোও এ ব্যাপারে সোচ্চার। কিন্তু যারা এসব দেখভালের সঙ্গে জড়িত সেসব কর্তৃপক্ষ না দেখার ভান করার নীতি গ্রহণ  করায় তাদের ঘুম ভাঙানো যাচ্ছে না। এ অবস্থার অবসানে সরকারকেই কঠোর অবস্থান নিতে হবে।