ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নামছে

 ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নামছে

বাংলাদেশ ‘পানির দেশ’ হিসেবে পরিচিত হলেও গত দুই দশক ধরে এখানে পানি সংকটই প্রকট হয়ে উঠেছে। একদিকে যেমন নদ-নদীগুলো প্রবাহ স্বল্পতায় ভুগছে, অন্যদিকে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমে নিচে নেমে যাচ্ছে। বিসবুজীকরণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের হার ও ঋতুভিত্তিক বন্টনে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে ২০১৬ সালে ১৭০ ফুট গভীর থেকে পাওয়া যেত নলকূপের পানি। এখন ২৩০ ফুটেও এই পানি মিলছে না। শুধু আগ্রাবাদই নয়, চট্টগ্রাম শহরের অধিকাংশ জায়গায় গত পাঁচ বছরে ১০০ থেকে ১২০ ফুট কমেছে পানির স্তর। নগরীতে ওয়াসার ৪০টি গভীর নলকূপের পানির তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এর ফলে বাড়ছে সুপেয় পানির সংকট। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন এলাকার রাস্তাগুলোতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। সেচ প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হবে। কমে যাবে নদীর পানিও। আবার পানির স্তর নিচে নামার কারণে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় লবণাক্ততার পরিমাণ বাড়বে। শুধু চট্টগ্রাম নয়। সারা দেশেই পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। আগামী দিনে পানি সংকট মোকাবিলায় আমাদের পানি নিরাপত্তার ঝুঁকিগুলো এখনই চিহ্নিত করা জরুরি?। তাই বাংলাদেশকে প্রকৃতি নির্ভর পানি সংকট সমাধানের দিকেই যেতে হবে। শুস্ক মৌসুমে (ডিসেম্বর -এপ্রিল) ব্যবহারের জন্য নদীর পানি ধরে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে নদীতে রাবার ড্যাম ও ব্যারাজের মাধ্যমে পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে সেচ কাজে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ যে পানির সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে তার প্রধান কারণ উজানে পানি প্রত্যাহারের ঘটনা। নদ-নদীর পানির ধারণ ক্ষমতা হ্রাসও এ বিপদের জন্য দায়ী অস্তিত্বের স্বার্থে উজানে পানি প্রত্যাহার রোধে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।