চাঁদা না পেয়ে মারপিট

বড়াইগ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ স্বাস্থ্যসবা থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী

 বড়াইগ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ  স্বাস্থ্যসবা থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মৃধাকচুয়া কমিউনিটি ক্লিনিক (সিসি) প্রায় পাঁচ মাস যাবত বন্ধ। স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত গর্ভবতী মা ও শিশু সহ হাজারো মানুষ। গতকাল শনিবার জেলার গোপালপুর ইউনিয়নের  মৃধাকচুয়া গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিকে সরেজমিনে গেলে ক্লিনিকটির দরজা  তালাবদ্ধ দেখা যায়। এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ মাস যাবত ক্লিনিকটি বন্ধ রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ক্লিনিকে একজন সিএইচসিপি রয়েছেন। তিনি অনিয়মিত কর্মস্থলে আসায় ও জনগণঔষধ না পাওয়ায় গ্রামের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রায় পাঁচ মাস আগে কমিউনিটি ক্লিনিকটি তালা লাগিয়ে বন্ধ করে। পরবর্তীতে সিসির সভাপতি লুৎফর রহমান সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটায় ও ৪ অক্টোবর থেকে সিসি খোলা হয়।

 কিন্তু গত ১৯ অক্টোবর সাড়ে নয়টায় সিসির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান তার দলবল নিয়ে ক্লিনিকে এসে ভিতরে ঢুকে সিএইচসিপি মেহেদী হাসানকে এলোপাতাড়িভাবে মারপিট করে তার কাছ থেকে তালা-চাবি কেড়ে নিয়ে ঘর থেকে বের করে দিয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে দেয় আবারো। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে  ভর্তি করে।
মেহেদী হাসানের মা শরিফা খাতুন বলেন, উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে ইউপি সদস্য হিসেবে আমার স্বামী মৃত আব্দুল জলিল মোল্লা প্রায় পনের বছর ও আমি মহিলা সংরক্ষিত আসনে ইউপি সদস্য হিসেবে দীর্ঘ নয় বছর সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করি এসেছি। এছাড়া আমার স্বামী ছিলেন একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা।  আমার ছেলে প্রায় নয় বছর কমিউনিটি ক্লিনিকে সিএইচসিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু  প্রভাবশালী কুচক্রি মহল আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। আমার ছেলের কাছে তারা বড় অঙ্কের চাঁদা দাবী করছে। আমার ছেলে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে চাবি কেড়ে নিয়ে ক্লিনিকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। আমি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহ প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোর দাবী, অতি সত্বর অপরাধীদের আটক করে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।

ক্লিনিকের সাবেক সভাপতি আবু সাইদ জানান, ক্লিনিকটি নিয়মিতই খুলতো। কিন্তু কিছুদিন যাবৎ ক্লিনিকটি বন্ধ রয়েছে। এলাকার জমসেদ আলি সহ কয়েকজন জানিয়েছেন, ক্লিনিকটি দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকায় বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও শিশুরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এলাকার আশেপাশে কোনো সরকারী বা বেসরকারী চিকিৎসা কেন্দ্র নেই। এছাড়া আমাদের এলাকার অধিকাংশই রাস্তা কাঁচা থাকার কারণে ইচ্ছা করলেই দুরে কোথাও রুগী নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। এ রাস্তায় গাড়ী, রিক্সা-ভ্যান চলাচল করে না। তাই জনগণের স্বার্থে সরকারের কাছে জোর দাবী অতি জরুরীভাবে এই কমিউনিটি ক্লিনিকটি খুলে দিয়ে জনসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

ক্লিনিকে দায়িত্বরত সিএইচসিপি মেহেদি হাসান বলেন, আমি দীর্ঘ প্রায় নয় বছর নিয়মিত ক্লিনিকে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু এলাকার প্রভাবশালী লুৎফর রহমান, আতিয়ার, মোস্তাক, কাউসার সহ আরো কয়েকজন ক্লিনিকে এসে আমাকে মারপিট করে বের করে দেয় এবং ক্লিনিকটিতে তালা মেরে দেয়। আমি জনগণকে ঔষধ দিতে পারছি না। জনগণ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। ক্লিনিকটি খুলে দেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।