ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি

 ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। একদিকে সরকারি খাতে বেশি ঋণ যাচ্ছে, অন্যদিকে আগে বিতরণ করা আদায় হচ্ছে না। এতে ওঠাসব খেলাপি ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিত বা প্রভিশনও রাখতে হচ্ছে। তাতে মূলধন ঘাটতিতে লড়ছে ব্যাংক। ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া কোনো উদ্যোগই কাজে আসছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। খেলাপি ঋণ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই মূলধন ঘাটতি বাড়ে। ১২টি ব্যাংকের বিপুল অংকের মূলধন ঘাটতি থাকলেও কিছু ব্যাংক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রাখতে সক্ষম হয়েছে। মূলধন ঘাটতির তালিকায় থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে সাতটি সরকারি, তিনটি বেসরকারি এবং একটি বিদেশি খাতের।

সরকারি ব্যাংকের দক্ষতা না বাড়িয়ে জনগণের করের টাকায় বারবার মূলধন জোগান নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থ বছর থেকে সরকারি ব্যাংকের আর কোনো মূলধন জোগান দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক দিন ধরেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ব্যবসা বাণিজ্যে গতি ফিরছে না। উদ্যোক্তারা নতুন করে বিনিয়োগে আসছে না। প্রতিযোগিতা টিকতে না পেরে অনেকেই শিল্প কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন। আর ব্যাংকের বেশির ভাগ ঋণই যাচ্ছে সরকারের ঘরে। এমন পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাত ঋণ পাচ্ছেন। আবার আগে বিতরণ হওয়া ঋণের টাকাও ফেরত পাচ্ছে না ব্যাংক। ফলে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। তাই সব বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম কাটিয়ে উঠে দেশের ব্যাংকিং ঋাতের সুনাম ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার বিকল্প নেই।