বৃদ্ধ ছইমদ্দীর বিচিত্র কর্মকান্ড

 বৃদ্ধ ছইমদ্দীর বিচিত্র কর্মকান্ড

মমিনুল হক সবুজ, বাগমারা (রাজশাহী): বৃদ্ধ ছইমদ্দী (৮৮) বিচিত্র এক মানুষ। বিচিত্র তার কর্মকান্ড। ৩০ বছর ধরে প্রতিদিন ৩০ মাইল করে হাঁটেন। ৬০০ টাকা পুজি নিয়ে জীবনের পুরো সময় পার করে দিলেন। তবুও ঐ ৬০০ টাকার পুজি এখনও তার কাছে রয়ে গেছে। এ বৃদ্ধ গ্রামে গ্রামে গিয়ে হাঁসের পালক কিনে মোকামে বিক্রি করেন। এ হাঁসের পালকের ব্যবসা দিয়েই জীবনের বাঁকি সময়টুকু শেষ করতে চান। তার খাওয়া-দাওয়াও বিচিত্র ধরনের। সকালে ৩০-৫০ গ্রাম খাবার, দুপুরে ১০০-১৫০ গ্রাম খাবার, রাতে শুধু ১ কাপ চা। তবুও তার শরীর রোগমুক্ত বলে তিনি দাবি করেন। তাকে দেখলে মনে হয় না ৮৮ বছর বয়স। তার ছেলে মেয়ে আছে। তবুও নিজের রোজগার দিয়ে নিজে খরচ করে বেঁচে থাকতে চান। তিনি অর্থলোভী নন। তার কথা শুনে এরকমই মনে হয়। ৬০০ টাকার পুজিতে মাসে ৬০০০ টাকা রোজগার করেন। ৬০০০ টাকা রোজগার হলে ঐ মাসে আর পালক কিনতে বের হন না।
 সম্প্রতি তার সঙ্গে কথা হয় বাগমারার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রাম গ্রামে। তার বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার রসুলপুর গ্রামে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ব্যবসা করে তার উপলব্ধি হয়েছে আগের দিনে মানুষ হাঁসের মাংস খেলে তার পালক যতœ করে রেখে দিত। এখন হাঁসের পালক আর রাখতে চান না। কারণ ১টি হাঁসের পালক ২-৩ টাকা দিয়ে তিনি ক্রয় করেন। আর ঐ সামান্য টাকার জন্য মানুষ হাঁসের পালক রাখতে চান না। তারপরও এই বৃদ্ধের কথা মনে হলে অনেকেই রেখে দেন হাঁসের পালক যতœ করে। বৃদ্ধ ছইমদ্দী যখন বলছিলেন তার ব্যাগে কেবল ৬০০ টাকার কয়েন। এ কয়েন দিয়েই তিনি হাঁসের পালক কিনেন।  তিনি প্রতিটি গ্রামে মাসে ২-১ বার করে যান। ১০০-১৩০ গ্রাম জুড়ে তার ব্যবস্যা।