বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ড. কামালের গাড়িবহরে হামলা

 বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ড. কামালের গাড়িবহরে হামলা

স্টাফ রিপোর্টার : মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এলাকায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বের হওয়ার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব ও গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিকের গাড়িসহ ৬/৭টি গাড়ি ভাংচুরের শিকার হয়। এতে ঢাকা-১৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু ও আসম আবদুর রবের গাড়ি চালকসহ ১০/১২ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের ভাষ্য।
 
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনে আসেন। এ সময় জোটের নেতাদের মধ্যে জেএসডির আসম আবদুর রব, গণফোরামের জগলুল হায়দার আফ্রিক ও রেজা কিবরিয়া, বিএনপির আবদুস সালাম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তার সঙ্গে ছিলেন। হামলার বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর লতিফুল বারী হামীম গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল ১০টার দিকে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কামাল হোসেনসহ জোট নেতারা বেরিয়ে এসে মূল ফটকের সামনে গাড়িতে ওঠার পর হামলার ওই ঘটনা ঘটে।

 ছাত্রলীগ-যুবলীগের একদল সন্ত্রাসী লাঠি-সোটা নিয়ে এই হামলা চালায়। তারা স্যারের (ড. কামাল) গাড়িতে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। ফ্রন্টের নেতা আসম আবদুর রব সাহেবের গাড়িতেও তারা হামলা চালায়। গাড়ি চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলছেন, বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের সামনের রাস্তায় তাদের নেতা-কর্মীদের লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। এ সময়ে নেতা-কর্মীরা এদিক-ওদিক ছুটোছুটি করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিএনপি নেতা-কর্মীরা একজোট হয়ে সেøাগান দেওয়া শুরু করলে হামলাকারীরা সরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটকে ড. কামাল হোসেনের গাড়ি রাখা ছিল। তিনি যখন গাড়িতে বসতে যাচ্ছিলেন, তখন অতর্কিতে ওই গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। আশপাশে যারা তার সঙ্গে হেঁটে আসছিলেন, তাদের মারধর করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন টিভি সাংবাদিক আহত হন। এ বিষয়ে কথা বলতে কামাল হোসেন শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আসবেন বলে ঐক্যফ্রন্টের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর হামীম জানান। হামলার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শাহ আলী থানা পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, এ ধরণের অভিযোগ নিয়ে কেউ তাদের কাছে আসেনি।
এর আগে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কামাল হোসেন বলেন, স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে যারা কাজ করছে, লোভ-লালসা নিয়ে লুটপাট করছে, তাদের হাত থেকে এই দেশকে মুক্ত আমরা করবই। যত শক্তিধর হোক তারা, দেশের মালিক জনগণের কাছে তাদের নত হতে হবে, তাদের পরাজয় হবেই। সাংবাদিকরা এ সময় স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, শহীদ মিনারে এসব বিষয়ে কোনো কথা তিনি বলবেন না। এরপরও সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে থাকেন। একজন বলেন, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। তারপরও তারা ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে নির্বাচন করছে। ৮১ বছর বয়সী ড. কামাল এ সময় ক্ষেপে ওঠেন। তিনি বলেন, প্রশ্নই ওঠে না। বেহুদা কথা বল। কত পয়সা পেয়েছ এই প্রশ্নগুলো করতে? কার কাছ থেকে পয়সা পেয়েছ? তোমার নাম কী? জেনে রাখব তোমাকে। চিনে রাখব। পয়সা পেয়ে শহীদ মিনারকে অশ্রদ্ধা কর তোমরা। আশ্চর্য! পাশে থাকা দুই-একজন নেতা এ সময় কামাল হোসেনকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আরেকজন সাংবাদিক এ সময় প্রশ্ন চালিয়ে গেলে ধমকে ওঠেন কামাল। তিনি বলেন, শহীদদের কথা চিন্তা কর। চুপ কর। চুপ কর। খামোশ। পরে ড. কামাল হোসেন হাপাতে হাপাতে প্রশ্ন করেন, আশ্চর্য! কোন চ্যানেল থেকে এসেছ? জেনে রাখলাম।