যৌতুকের বলি

বিয়ের সাত মাসেই নিভে গেল পূর্ণিমা’র জীবনের আলো

 বিয়ের সাত মাসেই নিভে গেল পূর্ণিমা’র জীবনের আলো

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : ছিলো না বড় কোনো আয়োজন, ছিলো না কাজী, ছিলো শুধু ঈমাম। ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ঈমাম ডেকে রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করেই বাল্যবিয়ে দেয়া হয়েছিলো নবম শ্রেণির ছাত্রী পূর্ণিমাকে। পরিবারের চাপে অবশেষে বিয়ের পিড়িতে বসতে হয় পূর্ণিমাকে। বিয়ের সাত মাস। তার মধ্যেই নিভে গেলো জীবনের আলো। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, যৌতুক হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা। নগদ প্রদান করা হয় ৬০ হাজার টাকা। বাকী ৫০ হাজার টাকা মেয়ের পরিবারের সুযোগ সুবিধা মতো প্রদান করার কথা থাকলেও শশুড় বাড়ির লোকজন বকেয়া টাকার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছিলো পূর্ণিমাকে। এক পর্যায় যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতন শুরু হয় পূর্ণিমার ওপর। নির্যাতন সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করে পূর্ণিমা। রোববার সন্ধ্যায় শ্বশুড়বাড়ির লোকজন পূর্ণিমাকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্ব্যাস্থ কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পূর্ণিমাকে মৃত ঘোষণা করে। পরে পূর্ণিমার লাশ রেখেই পালিয়ে যায় শ্বশুড়বাড়ির লোকজন।

 পরে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে নাটোর মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে। নিহত পূর্ণিমা শ্রীপুর গ্রামের পলান কাজীর প্রথম কন্যা। পাশের খুবজীপুর গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে সাগর হোসেনের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়েছিলো পূর্ণিমাকে। এ বিষয়ে সোমবার রাতে নিহত পূর্ণিমার বাবা বাদি হয়ে শ্বশুড়বাড়ির ৬ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত পূর্ণিমার স্বামী ও তার শ্বশুড়বাড়ির লোকজন পালাতক রয়েছে।গুরুদাসপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোজাহারুল ইসলাম জানান, রোববার রাতে হাসপাতাল থেকে খবর পাওয়ার পর পরই মরদেহটি উদ্ধার করে নাটোর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছিলো। সোমবার রাতে নিহত পূর্ণিমার বাবা পলান কাজী বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দিয়েছেন।