বিমান বন্দরে চোরাচালান

 বিমান বন্দরে চোরাচালান

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভেতরে শনিবার টয়লেটের ঝুড়ি থেকে ৪৮টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। এর ওজন ১৫ কেজি ৭৩৮ গ্রাম এবং বাজার মূল্য আনুমানিক সাত কোটি ৮৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ঢাকা কাস্টমস বিভাগগুলো উদ্ধার করেন। এ ছাড়া শাহজালালে পাঁচ কেজিরও বেশি সোনাসহ চীনের এক নাগরিককে আটক করেছে কাস্টমস। এর আগে ১৩ মার্চ বিপুল পরিমাণ সোনার বার সহ চীনের দুই নাগরিককে বিমান বন্দর থেকে আটক করা হয়। একের পর এক সোনা চোরাচালান ধরা পড়ার পরও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় চোরাচালানের প্রবণতার বাদ সাধা যাচ্ছে না। লক্ষ্যণীয় যে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিমান বন্দর থেকে সোনা উদ্ধার করা হচ্ছে। বিমান বন্দর ব্যবহার করে চোরাচালানের ঘটনা দেশবাসী জানতে পারে, যখন কোনো অবৈধ চালান ধরা পড়ে। কিন্তু নির্বিঘেœ নিরাপদে এ ধরনের চালান পার পেয়ে যায়, কেউ জানে না।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সোনা চোরাকারবারি চক্রের সদস্যরা নিরাপদ রুট হিসেবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে আসছে। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সোনার চোরাচালান আসছে। দেশের অর্থনীতিতে তা বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলছে। কারণ বিদেশ থেকে আসা সোনার বিপরীতে পাচার হয়ে যাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। যে অর্থ ব্যয় হতে পারত উৎপাদনশীল খাতে তা ব্যয় হচ্ছে অনুৎপাদনশীল খাতে। প্রশ্ন তুলতে পারেন কেউ কেউ এত নজরদারির কারণ নিয়ে। তাদের অনেকের হয়তো এটা জানা নেই যে, মানুষের চোখের পাশাপাশি এখানে-সেখানে স্থাপিত অনেক যান্ত্রিক চোখও সঙ্গোপনে তাদের ওপর নজর রাখছে সর্বক্ষণ। পান থেকে চুন খসলেই তা ধরা পড়বে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায়। এতসব আয়োজনের পরও দেশের প্রধানতম ও সদা ব্যস্ত বিমান বন্দরে কীভাবে নিয়মিত চোরাচালানের ঘটনা ঘটে? সরিষাতে কোনো ভূত আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। আমাদের মতে, সোনা চোরাচালান বন্ধে কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ বিমান বন্দরে সংশ্লিষ্টদের ওপরও নজর রাখতে হবে।