বিনিয়োগে স্থবিরতা

 বিনিয়োগে স্থবিরতা

বড় ধরনের বিনিয়োগ ঘাটতির মধ্যে আমরা। বছরের পর বছর পেরিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বাড়ছে না বিনিয়োগ। বলার অপেক্ষা রাখে না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন গতিশীল করতে হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বেসরকারি খাতে আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়ার পেছনে চাহিদা অনুযায়ী শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস না পাওয়া অন্যতম কারণ। অনেক উদ্যোক্তা শিল্প স্থাপন করেও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে তা চালু করতে পারছেন না। এ ছাড়া জমির অভাব, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ হার এবং দুর্বল অবকাঠামো প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না থাকায় কর্মসংস্থানের ওপর এর একটি প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া যথাযথ বিনিয়োগের অভাবে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির গতি কম থাকায় পুঁজিবাজারেও পড়ছে এর নেতিবাচক প্রভাব। দেশের শেয়ার বাজার গতিশীল করতে হলে অবশ্যই বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

এটা ঠিক গত দশ বছর দেশে যেমন দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন হয়েছে, তেমনি বিভিন্ন পরিসংখ্যানেও তা প্রকাশ পায়। বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ করে থাকেন বিনিয়োগে আগ্রহীরা। এমনকি দেশের বিনিয়োগকারী বা অভিবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও একই অভিযোগ পাওয়া যায়। উন্নয়ন ও বিনিয়োগ প্রশ্নে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও মতৈক্যও জরুরি। এ দুটি ছাড়া বিনিয়োগ ও উন্নয়নে কাঙ্খিত সাফল্য আসবে না। মধ্যম আয়ের দেশের অবস্থান সুসংহত করার পাশাপাশি উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছতে সামষ্টিক অর্থনীতি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্র্ণ। বিনিয়োগে গতিশীলতা আনতে এসব বাধা দ্রুততম সময়ে কাটিয়ে উঠতে হবে। উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিনিয়োগ যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি বিনিয়োগের জন্য সম্ভাব্য সব পথ খোলা রাখা।