বিচারপতি নিয়োগের জন্য আইনের খসড়া প্রস্তুত: আইনমন্ত্রী

 বিচারপতি নিয়োগের জন্য আইনের খসড়া প্রস্তুত: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন,উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগের জন্য একটি আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। বিচারপতি নিয়োগে আইন প্রণয়নে সরকার সম্পূর্ণ একমত। শুধু আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নয়, খসড়াও প্রায় তৈরি হয়ে গেছে। আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যে এটা মন্ত্রিপরিষদে নিয়ে যেতে পারব। ড়শলভঠ শনিবার সকালে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে পাস করা নতুন আইনজীবীদের মধ্যে সনদ বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আনিসুল হক বলেন, মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদনের পর তা বিল আকারে পাসের জন্য সংসদে পাঠানো হবে। পরে বিলটি যাচাই-বাছাই করে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হলে প্রণীত আইন অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ করা হবে।আইনমন্ত্রী বলেন, উচ্চ আদালতে বিচারকদের যোগ্যতা সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়ন করার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিচারক অপসারণের আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।নিয়োগেরও নীতিমালা তৈরি করা হবে।আইন পেশায় অব্যাহতির পরে আইনজীবীদের কল্যাণ ফান্ডের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনজীবীদের একটি কল্যাণ তহবিল রয়েছে। কিন্তু সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী, এই তহবিলে সরকারের পক্ষ থেকে ৪০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রী আরো বলেন,আইনজীবীদের সুবিধায় বার কাউন্সিলের একটি বহুতল ভবন নির্মাণের প্রস্তাব এরই মধ্যে একনেকে পাস করার জন্য পাঠানো হয়েছে।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘বার (আইনজীবী) ও বেঞ্চ (বিচারালয়) একে অপরের সম্পূরক।

তবে কার্যক্রমের ভিন্নতা থাকবে। কিন্তু তাদের হাতে হাত দিয়ে একসঙ্গে হাঁটতে হবে। বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কাজ করা যাবে না। আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, ‘আইন পেশায় জ্ঞান ও মেধা দিয়ে মক্কেলদের সহযোগিতা করতে হবে। এজন্য বেশি বেশি জ্ঞানের চর্চা করতে হবে। সেক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে পেশাগত অসদাচারণমূলক ব্যবহার কখনোই কাম্য নয়।অনুষ্ঠানে বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন বার কাউন্সিলের এনরোল কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান, ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম, সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, বারের লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান জেড. আই. খান পান্না প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বার কাউন্সিলের লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু।এ অনুষ্ঠানে ২০১৩ সালের ৬ এপ্রিল বার কউন্সিলে যুক্ত হওয়া তিন হাজারের বেশি সদস্যের হাতে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির সনদ তুলে দেওয়া হয়।