বাল্য বিয়ের প্রবণতা

 বাল্য বিয়ের প্রবণতা

বাল্য বিয়ে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হলেও এর কারণে মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বহুমুখী সামাজিক সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। সারা বিশ্বের সচেতন মানুষ এর বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা পালন করলেও এটি এখনও একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্য যখন বিশ্ব জুড়ে প্রশংসা অর্জন করছে, তখন বাল্য বিয়ে রোধ করার ক্ষেত্রে আমরা এখনও পুরোপুরি সাফল্য অর্জন করতে পারিনি। নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ মনোযোগ ও প্রণোদনার কারণে গত দুই দশকে আমরা অর্জন করেছি ধারাবাহিক অগ্রগতি। তারপরও বাল্য বিয়ে নিয়ন্ত্রণে কেন আমরা পিছিয়ে, এ ব্যাপারে গুরুত্ব সহকারে ভাবতেই হবে নীতি নির্ধারকদের। কারণ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বালিকা বা কিশোরীর জীবন, স্বাস্থ্য ও আর্থ-সামাজিক প্রতিষ্ঠা কেবল ঝুঁকিতে পড়ে না, তার পরিবার ও প্রজন্মও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাস্থ্য সূচকেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। আইন অনুযায়ী বাল্য বিয়ে বেআইনি হলেও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব ও ধর্মীয় কুসংস্কার কন্যা শিশুর বাবা মাকে সে অবাঞ্ছিত পথে পা বাড়াতে বাধ্য করছে।

সমাজে বখাটেদের উৎপাত এত বেশি যে, বাবা-মাকে কন্যা শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় ভুগতে হয়। মতলববাজ সমাজপতিদের দৌরাত্মের কারণে বাল্য বিয়ের ঘটনা ঘটছে। গ্রাম ও শহরের বস্তি এলাকায় কন্যা শিশুরা বয়:সন্ধিতে উপনীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বখাটেদের উৎপাতের মুখে পড়ে। সৃষ্টি হয় নিরাপত্তাহীনতা। বাংলাদেশের অধিকাংশ বাল্য বিয়ের ক্ষেত্রে বখাটেদের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার মনোভাব ক্রিয়াশীল। এর সাথে রয়েছে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অভাব। অনেক ক্ষেত্রে ভরণ-পোষণ করতে না পেরে গরিব অভিভাবক তাদের কন্যা শিশুকে বিয়ে দিয়ে দেন। আমরা চাই সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তর থেকে বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হোক। বেআইনি বাল্য বিয়ের সঙ্গে জড়িত সবার শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও বাড়াতে হবে।