একঘরে করার অভিযোগ

বালিয়াডাঙ্গীতে ধর্ষিতা ও তার সন্তান নিয়ে বিপাকে পরিবার

 বালিয়াডাঙ্গীতে ধর্ষিতা ও তার সন্তান নিয়ে বিপাকে পরিবার

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : কুমারী মা ও তার সন্তান নিয়ে বিপাকে পরেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মুসলিম ধর্মের একটি পরিবার। দরিদ্র ঘরের এই পরিবারটি অভাব অনটনে জন্ম নেয়া নবজাতক কন্যা শিশুর ভরণপোষণও করতে পারছেন না।জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রী  সন্তান জন্ম দেয়ার পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় মুসলিম সমাজপতিরা ওই পরিবারকে একঘরে করে রেখেছে বলে অভিযোগ পরিবারটির। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিবেশি কলেজ ছাত্র প্রলোভন দিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ন্যায় বিচার চেয়ে নবজাতক শিশুটিকে নিয়ে অভিযুক্ত কলেজ ছাত্র মোহিন চন্দ্রের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করেও লাভ হয়নি।

অভিযোগে জানা যায়, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধুকুরঝাড়ি টাকাহারা গ্রামে মুসলিম দরিদ্র পরিবারের ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে নানা প্রলোভনে প্রতিবেশি কলেজ ছাত্র মোহিন চন্দ্র সিংহ ধর্ষণ করে। গত ২৭ অক্টোবর রাতে ঠাকুরগাঁও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। থানায় মামলা হওয়ার পর এলাকা থেকে লাপাত্তা ধর্ষক কলেজ ছাত্র মোহিন। বাড়ি ফেরার পর থেকে ওই পরিবারের প্রতি বিরুপ আচরণ করছে প্রতিবেশিরা। হতদরিদ্র ওই পরিবার টিকে প্রায় কোনঠাসা করে রেখেছে প্রতিবেশিরা। কুটকথা আর নানা প্ররোচনা শুনতে হচ্ছে তাদের। তাই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না কুমারী মাতা ওই ছাত্রী। স্থানীয়দের এসব কথায় ওই পরিবারের বড় মেয়ে এবার জেএসসি পরিক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।

কুমারী মাতার বড় বোন রোজিনা অভিযোগ করে বলেন, একদিকে অর্থের অভাবে জেএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারিনি। অন্যদিকে শিক্ষকদের নিরুৎসাহিত করার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি। শুধু তাই নয়, স্কুলের সহপাঠিদের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের সাথে মিশতেও নিষেধ করেছে। তাই এখন লেখাপড়াতেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। কুমারী মাতার মা চেনুয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশিরা নানা ধরনের মন্তব্য করছে। নিষ্পাপ এই শিশুটির কি অপরাধ? অভাব অনটনের মধ্যে জন্ম নেয়া নবজাতকের ভরণপোষণও করাতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। তাই শিশুটিকে দত্তক দিতে চায় পরিবারটি।

কুমারী মাতার পিতা রুস্তম আলী বলেন, বর্তমানে তার মেয়ে ছেলের বাড়িতে নজরবন্দি অবস্থায় আছে। তাকে ওই বাড়ির একটি ঘরে তালা বদ্ধ করে রেখেছে। তিনি দ্রুত এ ঘটনার সমাধান চান। ধনতলা ইউপি চেয়ারম্যান সমর কুমার চ্যাটাজি বলেন, সমাজচ্যুত করে রাখার খবর জানা নেই। তবে এমন পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধানের উদ্যোগ দেয়াসহ আইনী সহায়তাও দেয়া হচ্ছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আমজাদ হোসেন বলেন, প্রধান আসামী মোহিন বর্তমানে পলাতক আছে। তাকে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে। ডিএনএ টেস্টের পরেই এ ঘটনার চার্জশীট প্রদান করা হবে।