বাঘ রক্ষার উদ্যোগ নিন

 বাঘ রক্ষার উদ্যোগ নিন

সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাঘদের রাজা হিসেবে বিবেচিত। সুন্দরবনের বাঘ সৌন্দর্য, শক্তি দুই দিক থেকে সেরা। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের গর্বের অনুষঙ্গ রয়েল বেঙ্গল টাইগার এখন বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। বিশেষজ্ঞদের মতে, নানা কারণে, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা দিন দিন কমছে। এর মধ্যে রয়েছে বাঘ শিকার ও দেহাবশেষ পাচার, বনাঞ্চল ধ্বংস, বাঘের আবাসস্থলের চারপাশে শিল্প ও কলকারখানা স্থাপন, বাঘ শিকার করার জন্য ফাঁদ ও বিষটোপের ব্যবহার, বাঘের খাবার শুকর, হরিণ ইত্যাদি প্রাণি নিধন। বাঘ ও মানুষের মধ্যে মধ্যকার দ্বন্দ্ব এবং বাঘ সমৃদ্ধ বনাঞ্চল দিয়ে যানবাহন ও নৌ চলাচল বেড়ে যাওয়া তাদের জন্য বিপদ ডেকে আনছে। যুক্তরাজ্যের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রাফিক ইন্টারন্যাশনালের মতে গত ১৯ বছরে প্রতি বছর ১২০টি বাঘ হারিয়ে গেছে। চামড়ার জন্য প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫৮টি বাঘ পাচার করা হয়েছে।

এ বনের বাংলাদেশের অংশে বাঘের সংখ্যা এখন মাত্র ১১৪টি। সুন্দরবন ক্রমান্বয়ে বাঘ শূন্য হয়ে ওঠার পেছনে বাঘ পাচার অন্যতম দায়ী। বাঘ সংরক্ষণে দায়বোধের অভাব বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরতম প্রাণীর জন্য বিপদ ডেকে এনেছে। সুন্দরবনের পূর্বাংশের ৬০ ভাগ বাংলাদেশের হলেও পশ্চিমাংশের ৪০ ভাগ ভারতের পশ্চিম বাংলার অংশ। এ বনকে রক্ষায় উভয় অংশের দায়িত্বশীলদের আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করা উচিত। সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়াতে হলে বাঘের খাদ্য বিশেষত, শুকরের সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। বাঘ শিকার এবং চামড়াসহ দেহাবশেষ পাচার বন্ধে নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা।