ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন

বাগাতিপাড়ায় বরখাস্ত থেকেও শিক্ষকের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের অভিযোগ

 বাগাতিপাড়ায় বরখাস্ত থেকেও শিক্ষকের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের অভিযোগ

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি : নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত গফুরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই আলোচিত শিক্ষক আবুল কালাম জামিনে মুক্তি পেয়ে সাময়িক বরখাস্তে থাকার পরও স্কুলের নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্র এবং সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা না হলেও অদৃশ্য কারনে স্কুলের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষকের সহোদর ভাই ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হওয়ায় তার যোগসাজশে আবুল কালাম হাজিরা খাতায় অবৈধভাবে স্বাক্ষর করছেন। অভিভাবকদের দাবী, শিক্ষক আবুল কালাম একজন অভিযুক্ত শিক্ষক এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া স্কুল কর্তৃপক্ষও বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেননি।

 এই অবস্থায় অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল কালাম কি ভাবে স্কুলের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী করেন অভিভাবকসহ এলাকাবাসী। প্রধান শিক্ষক আবু সায়েম বলেন, আইনি জটিলতা সম্পর্কে ধারনা না থাকায় দু’দিন তার স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়। পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করার পর তার স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে না। তবে সেই শিক্ষকের করা স্বাক্ষর ফ্লুইড দিয়ে মুছে দিয়েছেন বলে জানান। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আহাদ আলী বলেন, স্কুল কমিটির সভাপতি বিষয়টি তাকে অবহিত করলে তিনি আইনী জটিলতা সম্পর্কে তাদের জানান। এরপর থেকে ওই শিক্ষককে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, তিনি সদ্য যোগদান করায় বিষয়টি তার নজরে নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান। প্রসঙ্গত, গত ২০ এপ্রিল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে ছাত্রীর বাবার দায়ের করা মামলায় শিক্ষক আবুল কালামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে ম্যানেজিং কমিটি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।