বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

 বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দেশের নানা স্থানে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেফু প্লাবিত হয়েছে শত শত গ্রাম, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। তবে পানি বাড়ছে মধ্যাঞ্চলের সব নদ-নদীতে। পদ্মা-মেঘনা ও আড়িয়াল নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, চাঁদপুর, ফরিদপুর ও ঢাকার পাশের উপজেলা দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা। এসব জেলার নতুন নতুন এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে নদী ভাঙন। বানভাসীদের জীবনে যোগ হচ্ছে নানামুখী দুর্ভোগ। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে বানভাসি এলাকাগুলোতে। গত কয়েক দিনের বন্যায় দেশের লাখ লাখ মানুষের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

যে কারণে তারা সরকার প্রদত্ত ত্রাণ সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে। বানভাসি মানুষকে রক্ষা করা রাষ্ট্র তথা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। যে কোন দুর্যোগে সবার আগে মানবিক বিপর্যয়ের দিকগুলোর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। দুর্যোগ কবলিত অসহায় মানুষ যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য ও পানীয় পায়, সেদিকে বিশেষ যতœবান হওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়েও আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি থাকা উচিত। বন্যা পরবর্তী সংস্কার ও পুনর্বাসনের ব্যাপারেও আমাদের এখন থেকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ি বাঁধ, স্লুইস গেট প্রভৃতির দ্রুত সংস্কার ও মেরামতসহ ক্ষেতের ফসল, গবাদিপশু এবং ঘরবাড়ি হারানো মানুষের কাছে যতটা সম্ভব আর্থিক সহায়তার হাত প্রসারিত করা উচিত। বন্যা দুর্গত বিপন্ন মানুষের সাহায্যার্থে দলসহ নির্বিশেষে সবাই দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।