সাবরেজিস্ট্রারের হয়ে ঘুষ নেন অফিস সহকারী

বদরগঞ্জে সাবরেজিস্ট্রার অফিসে ঘুষ লেনদেনের ভিডিওচিত্র ফাঁস !

 বদরগঞ্জে সাবরেজিস্ট্রার অফিসে ঘুষ লেনদেনের ভিডিওচিত্র ফাঁস !

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী, মোহরার এবং দলিল লেখকদের ঘুষ লেনদেনের কয়েকটি ভিডিও চিত্র ফাঁস হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় তোলপাড় চলছে। ঘুষ ছাড়া দলিল সম্পাদন হয় না- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগে জানা গেছে, সাব রেজিস্ট্রার নিলুফার ইয়াসমীন সরাসরি কারো কাছ থেকে ঘুষ না নিলেও অফিস সহকারী, মোহরার  এবং দলিল লেখকদের মাধ্যমে দলিল প্রতি ৯শ’ টাকা করে ঘুষ নিচ্ছেন। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দলিল লেখকরা দলিল প্রতি আরো তিন থেকে চার হাজার টাকা ঘুষ নিচ্ছে।

ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, অফিস সহকারী রশিদুল হকের কক্ষে প্রবেশ করছেন এক দলিল লেখক। তিনি ওইদিন যেসব দলিল লিখেছেন সে অনুযায়ী টাকা দিচ্ছেন মোহরার গৌতম রায়ের হাতে। আর গৌতম রায় তা’ গুনে গুনে নিয়ে অফিস সহকারী রশিদুল হকের হাতে তুলে দিচ্ছেন। অফিস সহকারীও টাকা গুনে নিয়ে তার টেবিলের ড্রয়ারে রেখে দিচ্ছেন। অপর দু’টি ভিডিওতে দেখা যায়, অফিস সহকারী রশিদুল হক তিনজন দলিল লেখকের কাছ থেকে গুনে গুনে ঘুষ নিচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি দলিলে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ না দিলে দলিল লেখকরা দলিল লেখার কাজ শুরু করেন না। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের ঘুষ দিতে হয়। দলিল লেখকদের কাছে জনসাধারণ জিম্মি হয়ে পড়েছে। কারণ ঘুষ না দিলে তারা দলিল লেখেননা। দলিল লেখকরা জমি ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি টাকা না নিলেও অফিস শেষে সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অফিস সহকারীকে বাধ্যতামূলকভাবে ৯শ’ টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে। দলিল লেখক সমিতির নেতারা সমিতি এবং একটি মসজিদের নামে প্রতি দলিলে দু’ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেন। অতিরিক্ত টাকা না নিয়ে দলিল লেখকরা দলিল না লিখলে সমিতির নেতারা এসে বাক্সে তালা লাগিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহের তিনদিন (মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার) দলিল সম্পাদন হয়। এই তিনদিনে দলিল হয় ২৫০ থেকে ২৭০টি। বিধি অনুযায়ী কবলা দলিলে ইউনিয়নে ৯ শতাংশ এবং পৌরসভায় ১০ শতাংশ হারে ব্যাংক চালানের মাধ্যমে জমি ক্রেতারা সরকারের কোষাগারে টাকা জমা দেবেন। কিন্তু দলিল লেখকদের বাধার মুখে কেউই একাজটি করতে পারেননা।

বদরগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস সরকার বলেন, অনেক দলিল লেখক মাসে একটি দলিল লেখার কাজও পান না। তারা মানবেতর জীবনযাপন করেন। তাদের কথা চিন্তা করে জমি ক্রেতার কাছ থেকে কিছু টাকা নেয়া হয়। তবে মসজিদের নামে টাকা নেয়া হয়না।
এ ব্যাপারে আলাপকালে অফিস সহকারী রশিদল, সাবরেজিস্ট্রার নিলুফার ইয়াসমীন, রংপুর জেলা রেজিস্ট্রার মনিন্দ্রনাথ, মোহরার গৌতম রায় ও সীমা আক্তার ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। বদরগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রার নিলুফার ইয়াসমীন বলেন, আমার অফিসে কোনো ঘুষ লেনদেন হয় না।
জেলা রেজিস্ট্রার মনিন্দ্র নাথ বর্মণ বলেন, আমি ঘুষ নেই না। অফিসে অন্য কারও ঘুষ নেয়ার সুযোগও নেই। আমার কথা বলে কেউ যদি ঘুষ নিয়ে থাকেন তা হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। ওই ভিডিও চিত্রে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে তিনি বলেন, যদি অফিস সহকারী ও মোহবার কোনো দলিল লেখকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে থাকেন, তা হলে দায় তাদেরই নিতে হবে। মোহরার গৌতম রায়ও ঘুষ না নেয়ার দাবি করেন।