বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিনের প্রত্যাশা

 বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিনের প্রত্যাশা

আজ ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি। এই দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের পুরোটা সময় উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি তার কৈশর থেকে চার পাশের যে দুঃখী মানুষের চেহারা দেখেছিলেন, তাদের জীবনের মুক্তির লক্ষ্য নিয়েই তিনি তার নিজের স্বপ্ন আকাঙ্খা তৈরি করেছিলেন। এ আকাঙ্খার বাস্তবায়ন ঘটেছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভিপ্রায়। ১৯৭২ সালের এই দিনে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দিদশা হতে মুক্তি লাভ করে তিনি রক্তস্নাত ও যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন সগৌরবে। বৃটিশ বিমান বাহিনীর বাহনে চেপে মুক্ত বিহঙ্গের ন্যায় প্রিয় মাতৃভূমিতে অবতরণ করেন বাংলার অবিসংবাদিত নেতা। তেজগাঁ বিমান বন্দরে বঙ্গবন্ধুর পদার্পণের সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন ও আনন্দ মুখর পরিবেশ।

একদিকে মুক্তিযুদ্ধে স্বজন হারানো মানুষের বেদনা ও শোক, অন্যদিকে নানা শংকা ও হতাশার মাঝে আশার আলো হিসেবে প্রিয় নেতার আগমন। সেদিন বিমান বন্দর হতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সভামঞ্চ পর্যন্ত আন্দোলিত হয় জনসমুদ্রের ঢেউ। প্রত্যাবর্তনের দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভাষণে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা চির অক্ষয় থাকবে। তিনি এটাও বলেছিলেন যে, অর্থনৈতিক মুক্তি রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে সার্থক করবে। কিন্তু সেই অর্থনৈতিক মুক্তি এখনো আমাদের আসেনি, তাই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অর্জিত মহামূল্যবান ভৌগলিক স্বাধীনতা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি অধিক মনোনিবেশ করতে হবে। সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাজে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।