ফণীর ছোবলে ক্ষয়ক্ষতি

 ফণীর ছোবলে ক্ষয়ক্ষতি

মহাদুর্যোগের আশংকা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দুর্বল গতি নিয়ে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান ও ফসলের ক্ষেতে ধ্বংস চিহ্নের মানচিত্র এঁকেছে  ঘূর্ণিঝড় ফণী। এর প্রভাবে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে ধান, আলু, পেঁয়াজ, আম, লিচু, তরমুজ, সূর্যমুখী, ফুলক্ষেত, বাদাম, ভুট্টা, কাঁচামরিচ, পানের বরজ, কলাগাছ, শাক সব্জিসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসল নষ্ট হয়েছে। প্রবল বাতাসে মাটির সঙ্গে লোপাট গেছে ধান। অতি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আধা পাকা বোরো ফসল। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে পুকুুর ও ঘের থেকে ভেসে গেছে মাছ। ফণীর প্রভাবে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত প্লাবনের পানি ও নদীতে ডুবে, গাছ ও ঘর ভেঙে চাপা পড়ে, বজ্রপাতে ১৪ জেলায় সাত শিশু ও তিন নারী সহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ে ১১ জেলায় প্রায় দুই হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ঘরবাড়ি। এ ছাড়া উপকূলীয় অন্তত ৯ জেলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তর বলছে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির রবি শস্য নষ্ট হয়েছে। কৃষকরা আতঙ্কে প্রায় ৯ লাখ হেক্টর জমির আধা পাকা বোরো ধান কেটেছেন। ফণীর ছোবলে কৃষকের অবর্ণনীয় ক্ষতি হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে বৃহস্পতিবার ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে মাঠের ৮০ ভাগ পাকা বোরো ধান কাটতে এবং ভুট্টা, বাদামসহ পরিপক্ক সব ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় যতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। আমরা আশা করি, যত দ্রুত সম্ভব ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত হোক। আমরা মনে করি, ফণী দুর্বল হওয়াটা অনেক বেশি স্বস্তিকর, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিকেও আমলে নিতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ নিতে হবে।