পোশাক শিল্পের স্বার্থ রক্ষা জরুরি

 পোশাক শিল্পের স্বার্থ রক্ষা জরুরি

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরে বাংলাদেশের সামনে যে সব চ্যালেঞ্জ আসবে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিশ্ব বাজারে রপ্তানির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো। কারণ বিভিন্ন দেশে এলডিসি হিসেবে যে শুল্ক মুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে, তা আর থাকবে না। বাংলাদেশ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করলেও তৈরি পোশাক খাত থেকে মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ ভাগের বেশি। চলতি অর্থ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। এই আয়ের মূল অংশটাই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের রপ্তানিতে তৈরি পোশাকের অবদান ২০ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। যা মোট রপ্তানির ৮৩ শতাংশ। বর্তমানে দেশের তৈরি পোশাক ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা, রাশিয়ার মতো প্রায় ৪০টি দেশে জিএসপি (জেনারেলাইজড সিস্টেম অব রেফারেন্স) সুবিধা পায়। এই সুবিধা ক্ষেত্র বিশেষে বিনা শুল্ক থেকে শুরু করে অপেক্ষাকৃত কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুযোগ পায়। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়ে গেলে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে তৈরি পোশাক খাত। একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণ পর্যায়ে এবং পরবর্তী সময়ে রপ্তানি আয় বাড়াতে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের বিকল্প নেই। আমরা আশা করি বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর যেন বহির্বিশ্বে তাদের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার অব্যাহত থাকবে- আমাদের  সরকার এটি নিশ্চিত করতে জোর প্রচেষ্টা চালাবে। সরকারকে দেশের স্বার্থেই ইতিবাচক ভূমিকা নিতে হবে।