পোশাক শিল্পে সংকট

 পোশাক শিল্পে সংকট

চতুর্মুখী সংকট চলছে তৈরি পোশাক শিল্পে। রপ্তানিতে ধস নেমেছে। গেল ছয়মাসে রপ্তানির নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ঠেকেছে ৬ দশমিক ২১ শতাংশে। এ খাতের উদ্যোক্তারা শিল্পের উন্নয়নে বিপুল অর্থ খরচ করছেন। কিন্তু ক্রেতাদের কাছে পণ্যের বাড়তি দাম পাচ্ছেন না। সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন উদ্যোক্তারা। নিজেদের মধ্যেও চলছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। সব মিলিয়ে পোশাক শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারিয়েছে। এমন পরিস্থিতি উত্তরণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, খরচ কমানো ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির স্বার্থে অবিলম্বে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহারে ঋণ সুবিধা চেয়েছেন পোশাক শিল্পের মালিকরা। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেওয়া ৫ জানুয়ারির হাল নাগাদ প্রতিবেদন বলছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসে পোশাক পণ্যে রপ্তানি কমে ৬ দশমিক ২১ শতাংশ। এই কম আয় এ সময়ের রপ্তানি বৃদ্ধির হারের তুলনায় বেশি।

এই সময়ে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি কম হয়েছে ১২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। একক খাত পোশাকের আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম হয়েছে ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। মোট ১ হাজার ৬০২ কোটি মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ছয়মাসে, গত অর্থ বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭০৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত ৬ মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১০৬ কোটি ডলার। পোশাক মালিকরা বলছেন, ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদ ও অসহযোগিতার কারণে আর্থিক সংকটে পড়ে চলতি বছরই বন্ধ হয়েছে অর্ধ শতাধিক কারখানা। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে বিদেশি ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, মজুরি এবং অফিসের ব্যয় বহন করতে না পারায় অর্ধ শতাধিক কারখানা শুধু বন্ধ হয়নি, চাকরি হারিয়েছে হাজার হাজার শ্রমিক। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মধ্যে বড় সমস্যা আর্থিক অসচ্ছলতা। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারি সিদ্ধান্ত অত্যাবশ্যক। দেশের অর্থনীতির বিচারে পোশাক খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।