পেয়াজের পর এবার চালের বাজার অস্থির

 পেয়াজের পর এবার চালের বাজার অস্থির

স্টাফ রিপোর্টার : মাসখানেক ধরেই অস্থিরতা রয়েছে পেঁয়াজের বাজারে। মাত্র ৩০ টাকা কেজি থেকে ধাপে ধাপে তা বেড়ে ২৫০ টাকায় উঠে। এখনও অস্থিরতাভাব কমেনি পেঁয়াজ বাজারে। এর মধ্যে যোগ হলো এবার চালের বাজার। মাত্র চারদিনের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি বেড়েছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। পেঁয়াজের পর হঠাৎ চালের বাজার চড়া হওয়ায় মিশ্র-প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে। ক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের মতোই চালের বাজারেও সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যবসায়ীরা দায়ী নয়। মিলকল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়েছেন, ফলে প্রভাব পড়ছে বাজারগুলোতে। গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারের পাইকারি চালের বাজারে প্রতিবস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ২২৫০ টাকায়, আটাশ চাল ১৭৫০ টাকা, নাজিরশাইল ২৩৫০ থেকে ৩১০০ টাকায়।

 অথচ মাত্র চারদিন আগে প্রতিবস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ২০৫০ টাকায়, আটাশ চাল ১৪৫০ টাকা, নাজিরশাইল ১৯৫০ থেকে ২৭০০ টাকায়। অন্যদিকে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা, আটাশ ৪০ টাকা, ঊনত্রিশ ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, স্বর্ণা চাল ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা, চিনিগুড়া ১০০ টাকা কেজি দরে। অথচ মাত্র চার/পাঁচ দিন আগে বাজারভেদে প্রতিকেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা, নাজিরশাইল ৫০ থেকে ৫২ টাকা, আটাশ ৩৪ টাকা থেকে ৩৫ টাকা, ঊনত্রিশ ৩২ থেকে ৩৫ টাকা, স্বর্ণা চাল ২৮ থেকে ৩০ টাকা, চিনিগুড়া ৯০ থেকে ৯২ টাকা কেজি দরে। হঠাৎ চালের দর বাড়া নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র-প্রতিক্রিয়া। ক্রেতারা বলছেন, সরকারিভাবে বাজার তদারকি না করার কারণে পেঁয়াজের মতোই দাম বাড়ছে চালের।

 আবু মুরসালিন নামে কারওয়ানবাজারের একক্রেতা বলেন, ব্যবসায়ীরা তো এখন দেশটাকে মগের মুল্লুক মনে করছেন। ইচ্ছে হলে পেঁয়াজের দর বাড়াচ্ছে, সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন, এখন চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এভাবে চলতে পারে না। দেশে ধানের সংকট নেই, বাজারে চালের অভাব নেই এর মধ্যে চালের দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তি কারণ থাকতে পারে না। চালের দর বাড়ার বিষয়ে বিক্রেতারা দুষছেন মিল মালিকদের। তাদের মতে, মিল মালিকরা দর বাড়িয়েছেন বলেই বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে কারওয়ানবাজারের পাইকার চালবিক্রেতা আবু রায়হান বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়েছেন। সেখান থেকে আমাদের বাড়তি দামে চাল কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে।তাই চালের দাম বাড়ার পেছনে বিক্রেতাদের কোনো হাত নেই।