পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ

 পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ

দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে আড়াই কোটিরও বেশি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। নারীর পুষ্টিহীনতার চিত্র আরো ভয়াবহ। পুষ্টিহীন মানুষের মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণও অপুষ্টি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আমাদের দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়লেও পুষ্টি পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির বিষয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে বাংলাদেশে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং খাদ্য নিরাপত্তায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে। তবে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে খর্বতা ২৭ শতাংশ কমিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। দেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা উচ্চ মাত্রার অপুষ্টিতে ভুগছে- এ কথা বলা হয়েছে সহযোগী এক জাতীয় দৈনিকে। এসব শিশু খর্বতা ও কম ওজনসম্পন্ন হচ্ছে। শিশু ও প্রজননক্ষম নারীদের মধ্যে অপুষ্টি কণার ঘাটতি প্রবল। গ্রামে ও শহরের বস্তি অঞ্চলে পুষ্টি পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, অপুষ্টির কারণে প্রতি বছর দেশের আর্থিক ক্ষতি হয়। উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এটি একটি অন্যতম বাধা। অপুষ্টির কারণে শিশুরা অসুখ-বিসুখে বেশি ভোগে। এতে তাদের জন্য পরিবার ও সরকারের খরচ বেড়ে যায়। পুষ্টিহীনতা দূর করতে মায়ের অন্তঃসত্ত্বার সময় থেকে শিশুর দুই বছর পর্যন্ত নির্দিষ্ট খাদ্য নির্দিষ্ট পরিমাণে খেতে হবে। তবেই শিশুদের পুষ্টিচক্রের উন্নতি হবে। উপযুক্ত খাদ্য প্রাপ্তি ও ক্রয় ক্ষমতার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য, খাদ্যাভ্যাস ও শিক্ষা এবং সচেতনতাকে গুরুত্ব দিয়ে সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করা দরকার। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দফতরের যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন সময়ক্ষেপণ না করে।