স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থানায় মামলা

পীরগঞ্জে পুলিশ স্বামীর পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন

 পীরগঞ্জে পুলিশ স্বামীর পরকীয়ায়  বাঁধা দেয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের পীরগঞ্জে পুলিশ কনস্টেবল মাইদুল ইসলামের একাধিক পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় ও যৌতুকের দাবী পুরন না করায় স্ত্রী সুবর্না আক্তার (২৩) কে বেদম পিটিয়ে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টার  অভিযোগে কনস্টেবল স্বামীর বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় মামলা করেছে স্ত্রী।  গতকাল সোমবার এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলা ও পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জের রায়পুর ইউনিয়নের কুমারগাড়ী গ্রামের মৃত. আনিছার রহমানের ছেলে মাইদুল ইসলাম রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল (কং নং- ১৪০৪) ২০১৩ সালে একই ইউনিয়নের ধুলগাড়ী গ্রামের আবুল কালাম মিয়ার একমাত্র মেয়ে সুবর্নাকে বিয়ে করে। এখন পর্যন্ত তাদের সংসারে কোন সন্তান নেই। বিয়ের পর থেকেই ওই কনস্টেবল তার চাকুরীতে প্রমোশনের অযুহাত দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে। তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজশাহীতেই স্ত্রী সুবর্নাকে কয়েকদফা মারপিট করা হয়। এছাড়াও ওই কনস্টেবল রাজশাহীতে একাধিক মহিলার সাথে পরকীয়ায় জড়িত হলে স্ত্রী সুবর্না এসব পরকিয়ায় সব সময় বাধা দিয়ে আসছিল।

 এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সুবর্নাকে কয়েকদফায় অমানবিক শারীরিক নির্যাতন করলে রাজশাহী পুলিশ লাইনে ওই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ৩ বার বিভাগীয় বিচারও হয়। একপর্যায়ে কনস্টেবল মাইদুলকে ২০১৭ সালে বরিশাল র‌্যাবে সংযুক্ত করা হয়। সেখানেও ওই কনস্টেবল আবারো একাধিক পরকীয়ায় আসক্ত হলে বাঁধা দেয় স্ত্রী। ফলশ্রুতিতে সুবর্নার উপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। মাইদুলের এসব অপরাধের ব্যাপারে বরিশাল র‌্যাব অফিসেও ২ বার শালিস হয়। গত ২ অক্টোবর সুবর্নাকে মাত্রাতিরিক্ত নির্যাতন করায় তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করার পর গত ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তার চিকিৎসা চলে। গত ৯ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত কনস্টেবল মাইদুলের ছুটি হলে সে তার স্ত্রীকে যৌতুকের টাকা আনার জন্য বাড়ীতে পাঠায়।

একপর্যায়ে মাইদুল গত ১৮ অক্টোবর বাড়ীতে এসে যৌতুকের টাকা না পেয়ে ওইদিন গভীর রাতে স্ত্রীকে বেদম মারপিট করে বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখে। পরদিন দুপুরে সুবর্নার অবস্থা আশংকাজনক হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। এ সময় বড়আলমপুর ইউনিয়নের মমিন মার্কেট নামকস্থানে কনস্টেবল মাইদুল তার পথরোধ করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা ওই সময় আবারো কনস্টেবলের হাত থেকে তাকে রক্ষা করে পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। বর্তমানে কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডের এফ-১৬ নম্বর বিছানায় অসহ্য যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন সুবর্না। চিকিৎসাধীন সুবর্না জানায়, আমি স্বামীর নির্যাতন সহ্য করে আসছি দীর্ঘদিন ধরে। আমাকে সন্তানও নিতে দেয়া হয়নি। চাকরীতে পদোন্নতির কথা বলে লাখ লাখ টাকা নিয়েছে। আরও দাবী করছে টাকার। এ ব্যাপারে গতকাল সোমবার তিনি বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওসি সরেস চন্দ্র বলেন- এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।