পাটের সুদিন ফিরে আসুক

 পাটের সুদিন ফিরে আসুক

বাংলাদেশকে বলা হতো সোনালি আঁশের দেশ। আশির দশক পর্যন্ত পাট ছিল দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য। এক সময় পাটকলগুলো দেশের প্রধান শিল্প হিসেবে বিবেচিত হতো। গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম ভিত হিসেবে ভাবা হতো সোনালি আঁশকে। কালের বিবর্তনে পাট তার অবস্থান হারিয়েছে। কৃত্রিম তন্তুর কাছে মার খেয়ে পাটের এখন নাজুক দশা। পাটজাত পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় ক্রমান্বয়ে কমছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হাল নাগাদ তথ্যানুযায়ী, পাট খাতে গেল বছর রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অথচ জুন মাস শেষে এ খাতের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে  ৮১ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ পিছিয়ে এ খাতের রপ্তানি আয়। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন বাংলাদেশ অনিবার্যভাবে পাট রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে। এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। একটি হলো পাট পণ্য উৎপাদনে শ্রমিক ও মেধার অদক্ষতা। আরেকটি হলো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি। যেমন- ইরান বাংলাদেশের সবচেয়ে বাজারগুলোর একটি। সে দেশে ট্রাম্পের অবরোধের ঘোষণার পর বাংলাদেশের পাট রপ্তানি অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আফ্রিকার বাজার ভারত ইতোমধ্যে দখল নিয়েছে। বাংলাদেশেও তারা ঢুকে পড়ছে।

প্রতিযোগিতার বাজারে পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবে ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে ভিন্ন বাজার খুঁজছে। পণ্য উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তি এনে উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনতে পারলে এই খাতের পণ্য রপ্তানিতে অনিবার্য পতন থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে তারা মনে করেন। পাট রপ্তানিতে প্রণোদনা দেওয়ার কথাও ভাবতে হবে। পাট চাষের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ কৃষক, এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল শ্রমিকের স্বার্থে পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নজর দিতে হবে। কৃত্রিম তন্তুর কাছে পাট যাতে মার না খায় সে উদ্যোগও নেওয়া দরকার।