পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করুন

 পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করুন

বাংলাদেশকে বলা হতো সোনালি আঁশের দেশ। আশির দশক পর্যন্ত পাট ছিল দেশের প্রধান রফতানি পণ্য। এক সময় পাটকলগুলো দেশের প্রধান শিল্প হিসেবে বিবেচিত হতো। গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম ভিত হিসেবে ভাবা হতো সোনালি আঁশকে। পাট উৎপাদন করে চাষিরা যে অর্থ পেতেন তা দিয়ে তাদের সাংবার্ষিক খরচ চলত। দেশের শিল্পখাতে এক সময় সবচেয়ে বেশি লোক নিয়োজিত ছিল পাটকলগুলোতে। তবে পাট ও পাটজাত পণ্যে বর্তমান সরকার নানা রকম প্রণোদনা ঘোষণা করে। বাড়তে থাকে পাটের উৎপাদন। গত মওসুমে কৃষক বোরো চাষ করে ফসলের দাম পায়নি। আশা করেছিল এবার পাট চাষ করে সে ক্ষতি পুষিয়ে নেবে। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। পাটচাষে কৃষকের লোকসান বিঘে প্রতি আরও বেশি হয়েছে। এক বিঘা পাটচাষ করে কৃষককে লোকসান গুণতে হয়েছে আটহাজার টাকা। যেখানে মৌসুমের শুরুতে পাটের দাম ছিল ১৮০০-২০০০ টাকা, সেখানে নতুন পাট ওঠার পর দাম নেমে এসেছে মণপ্রতি ১২০০-১৩০০ টাকায়। প্রতি বছর নতুন পাট ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই পাটের মূল্য অর্ধেকে নেমে আসার ঘটনা ঘটছে। পাটচাষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখ লাখ কৃষক, এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল শ্রমিকের স্বার্থে পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নজর দিতে হবে। ফড়িয়া মধ্যস্বত্বভোগী মুক্ত করতে হবে পাটের বাজার। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পাট কিনতে হবে। বিদেশে পাট পণ্যের নতুন নতুন বাজার খুঁজতে হবে। কৃত্রিম তন্তুর কাছে পাট যাতে মার না খায় সে উদ্যোগও নেয়া দরকার। কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। পাট সংকটে বিরাজমান দুর্দশা কাটিয়ে আবারও তার সোনালি আঁশের মর্যাদা ফিরে পাবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।