পর্যটন বদলে দিতে পারে

 পর্যটন বদলে দিতে পারে

সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প কথাটি যেন প্রবাদে পরিণত হয়েছে। এ খাতের সম্ভাবনা কখনোই সাফল্যে রূপ নেয়নি। যথাযথ পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বরাদ্দ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দক্ষ জনবল, ব্যাপক প্রচারণা ও কার্যকর সমন্বয় না থাকার কারণে শিল্প ঘোষণার দুই যুগ পরও কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌছাতে পারেনি পর্যটন খাতে। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী গোড়াপত্তন হয় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বিপিসি)। দীর্ঘ সময় পর ১৯৯২ সালে প্রণীত জাতীয় পর্যটন নীতিমালায় প্রথম বারের মতো শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় পর্যটনকে। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সে নীতিমালা হালনাগাদ করে আরও যুগোপযোগী করা হয় ২০১০ সালে। দীর্ঘ সময় পেরোলেও নীতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো এখনও উপেক্ষিত। এ নীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, পর্যটন শিল্প উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন, দীর্ঘ, মধ্য ও স্বল্প মেয়াদে কর্মপরিকল্পনা ও কৌশলগত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, জাতীয় আঞ্চলিক ও এলাকাভিত্তিক মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন। নীতিমালার লক্ষ্যের প্রতি খেয়াল রেখে এখন পর্যন্ত কোনো মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়নি।

তবে দীর্ঘদিন পর এ ব্যাপারে গৃহীত উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন পর্যটন বিশেষজ্ঞরা। পর্যটন খাতের উন্নতি বলতে বাংলাদেশে এখনো পাঁচ তারকা হোটেল, রাস্তাঘাট বা অবকাঠামো সুবিধা উন্নয়নকে বোঝায়। কিন্তু আমাদের প্রতিবেশি সব দেশ আগামী ৫০ বছরে পর্যটনের বাজার কী হবে, সে চিন্তা করছে। এখন পৃথিবীতে ৭২৫ কোটি জনসংখ্যার বিপরীত পর্যটকের সংখ্যা ১০০ কোটি ছাড়িয়েছে। ২০৫০ সালে এই পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে ৫৫০ কোটি পর্যটকের অর্ধেকই আসবে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। এই বাজার ধরতে ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে। বাংলাদেশকেও করতে হবে। এসব নিয়ে এখনই ভাবতে হবে। পর্যটনের উন্নতির জন্য গবেষণার সুযোগ তৈরি করতে হবে। পদ্মাসেতুর মতো বড় যেসব প্রকল্প এখন চলছে, সেগুলোকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।