নিরাপদ সড়কের জন্য আইন

 নিরাপদ সড়কের জন্য আইন

বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহণ আইন আগামী নভেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে। আইনটি কার্যকরের তারিখ ঘোষণা করে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গত বছরের ৮ অক্টোবর ‘সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮’ এর গেজেট জারি করা হলেও তার কার্যকারিতা ঝুলে ছিল। গত বছর ঢাকায় বাস চাপায় দুই ছাত্র-ছাত্রীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে আগের আইন কঠোর করে ২০১৮ সালে এ আইনটি করা হয়েছিল। এই আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদন্ড ও অর্থ দন্ডের বিধান রয়েছে। বর্তমান আইনটি ২০১২ সালে প্রণীত হয়। তখন থেকেই পরিবহণ খাতের সংশ্লিষ্টরা কিছু অজামিনযোগ্য ধারা সংশোধন করে সেগুলোতেও জামিনের সুযোগ রাখার দাবি জানাচ্ছিলেন। এ অবস্থায় আইনটি ঝুলে ছিল। প্রধানমন্ত্রী জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তার এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপকে আমরা সাধুবাদ জানাই। বিভিন্ন কারণেই সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটে।

চালকদের বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানোর পাশাপাশি বিপজ্জনক ওভারটেকিং, রাস্তাঘাট নির্মাণে ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোনের ব্যবহার এসব কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। আবার যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতাও অনেক দুর্ঘটনার কারণ। এ বিষয়গুলো নিয়ে এখনই না ভাবলে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে না। মনে রাখা দরকার, সড়ক দুর্ঘটনারও ভয়াবহতাকে বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি। শুধু আইন থাকলেই চলবে না, তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। কড়া হাতে সব নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ অনেকটাই সম্ভব।