নদ-নদী সুরক্ষা

 নদ-নদী সুরক্ষা

বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অস্তিত্বের অনুষঙ্গ হলেও নদী রক্ষায় আমাদের ব্যর্থতা প্রায় ক্ষমাহীন। নদী দূষণ ও দখল পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। তা সত্ত্বেও এ দেশে এটা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের উচ্চ আদালত কীভাবে নদী ও প্রতিবেশ সুরক্ষার প্রশ্নে দফায় দফায় রায় ও নির্দেশনা দিয়ে এসেছেন, আমরা জানি। আমাদের মনে আছে, ২০০৯ সালে প্রথম বারের মতো এক রায়ে নদীর সীমানা চিহ্নিত করা সহ নদী সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা এসেছিল। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ওই রায়েরই ধারাবাহিকতা। এরপর তুরাগ নদকে একটি ‘আইনি সত্তা’ ঘোষণা করে জাতীয় নদী কমিশনকে দেশের সব নদী ও জলাশয়ের অভিভাবক ঘোষণা করেছেন। কিন্তু এ রায় বাস্তবায়নে আমরা শতভাগ সফল হতে পেরেছি কি-না তা আলোচনা সাপেক্ষ। দখল ও দূষণ সংকুচিত হয়ে পড়েছে সারা দেশের বিভিন্ন শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহমান নদীগুলো।

পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে কোনো কোনো নদীতে প্রাণের অস্তিত্বই মিলছে না। এমনকি নদীর পানির ভয়াবহ বিষাক্ত পরিবেশে কোনো উদ্ভিদ ও প্রাণী আর জন্মাতে পারছে না, দখল ও দূষণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে সারা দেশের বিভিন্ন শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহমান নদীগুলো। এককালে এসব ‘শহুরে নদীতে’  প্রাণ বৈচিত্র্য থাকলেও এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই - এমন ৪টি নদীর প্রাণ ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। ২০১৮ সালে ৪৮ নদী রক্ষা, নদীর তথ্য ভান্ডার তৈরি ও গবেষণা প্রকল্প নামে চার বছর মেয়াদি একটি প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের অধীনে প্রথম এক বছরে ১৫টি নদীর জরিপ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। নদী আমাদের জীবন-জীবিকা-সাহিত্য সবকিছুর সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। নদী দখল ও দূষণ এ দুটি মানুষ কর্তৃক সৃষ্ট দুর্যোগের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নদী ভাঙন বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট সমস্যা বটে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং মানুষের বাসযোগ্য পরিবেশের স্বার্থে কাজটি অতীব জরুরি মনে রাখতে হবে। নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধই শুধু নয়, দখলদারদের কবল থেকে নদীকে রক্ষা করতে না পারলে আমাদের জন্য সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে। নদীতে প্রাণ ফেরানোর যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নদ-নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক হতে হবে।