বিরূপ প্রভাবে ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ফাটল

ধুনটে আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে যমুনা থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

 ধুনটে আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে যমুনা থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অবাধে বালু উত্তোলনের বিরূপ প্রভাবে যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ফাটল ধরেছে। এছাড়াও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, বসতবাড়ি ও আবাদি জমি। বালু উত্তোলনের বিরূপ প্রভাবে যমুনা পাড়ের মানুষের মাঝে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফলে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় ভুতবাড়ি গ্রামের গোলাম সরোয়ার নামের এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শহিদুল ইসলাম যমুনা পাড়ের বানিয়াজান গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দু’দিন ধরে যমুনা নদীর ভান্ডারবাড়ি গ্রামের সামনে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। সরকারি অনুমতি ছাড়াই যমুনা নদী থেকে খনন যন্ত্র দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করছেন তিনি। এরপর ভলকেট যন্ত্রের মাধ্যমে নদীর পার থেকে ভান্ডারবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মজুদ হচ্ছে সেই বালু। এদিকে প্রায় ৫ বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) শত কোটি টাকা ব্যয়ে ভান্ডারবাড়ি এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙনরোধে ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করে। ওই প্রকল্প এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করায় সিসি ব্লকের মাঝে ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে আবার সিসি ব্লক দেবেও গেছে। এছাড়াও ওই এলাকার আবাদি জমি, বসতভিটা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনে প্রশাসনের কোন অনুমতি নেই। ভান্ডারবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে ব্যবসায়ীরা দোকানঘর উচ্ছেদের নোটিশ পেয়েছে। তাই বাঁধের পাশে ভরাট করে সেখানে দোকানঘর নির্মাণের জন্য ব্যবসায়ীদের সাথে ৫ লাখ টাকা চুক্তিতে বালু তুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে যমুনা থেকে বালু উত্তোলনে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কোনো ক্ষতি হবে না বলে তিনি দাবি করেন। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র সহাকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। এর ফলে প্রকল্প এলাকার ক্ষতি হলে বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।