দূষণের কবলে নদ-নদী

 দূষণের কবলে নদ-নদী

নদী দূষণ পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। তা সত্ত্বেও এদেশে এটা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ও পরিবেশবাদীরা এ ব্যাপারে যতই সোচ্চার হোক না কেন কাজ হচ্ছে না। যারা পরিবেশ দূষণ করছে তারা কেবল প্রকৃতির শত্রুই নয় মানুষেরও শত্রু। কারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করছে তারা। অথচ সরকার এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। নদী দূষণ ও দখল, বৃক্ষ কর্তন, পাহাড় কাটা, ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি করা এসব কোনো ব্যাপারেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা চোখে পড়ে না। ফলে দেশের নদ-নদী দূষণের শিকার হচ্ছে অবলীলায়। চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউএনইসি প্রকাশিত বিশ্বের প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে প্রতিদিন প্রায় ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে। পরিমাণের দিক থেকে এটি বিশ্বে পঞ্চম। এই বর্জ্যরে উৎস গঙ্গা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পদ্মা, মেঘনা, যমুনা হয়ে এগুলো সাগরে যায়।

বাংলাদেশে এককভাবে দিনে তিন হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর মাত্র কিছু অংশ নদী দিয়ে সাগরে যায়। বাকি বর্জ্য এবং গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার দেশ থেকে আসা বিপুল প্লাস্টিক বর্জ্যরে একটি অংশ দেশের বিভিন্ন নদ-নদী এবং ভূ-ভাগকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকির সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা চাই অবিলম্বে নদ-নদীগুলো রক্ষা করে পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হোক। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং মানুষের বাসযোগ্য পরিবেশের স্বার্থে কাজটি অতীব জরুরি। মনে রাখতে হবে নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধই শুধু নয়, দখলদারদের কবল থেকে নদীকে রক্ষা করতে না পারলে আমাদের জন্য সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে। এক সময়ের রাজধানীর স্বচ্ছ পানির নদী বুড়িগঙ্গাকে এখন নদী না বলে আবর্জনা ও শিল্প বর্জ্য ফেলার ভাগাড় বলাই শ্রেয়। অবিলম্বে নদ-নদীগুলো দূষণমুক্ত করা হোক। পরিবেশ ও মানুষ বাঁচাতে এর কোনো বিকল্প নেই।