আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় শেখ হাসিনা

দলকে শক্তিশালী করতে জনমত সৃষ্টি করতে হবে

 দলকে শক্তিশালী করতে জনমত সৃষ্টি করতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে কিছু মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসে, নিশ্বাস নিতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আজকে আমরা দেশটাকে একটা অবস্থানে নিয়ে এসেছি। এর মূল শক্তিটাই ছিল দেশের জনগণ ও তাদের সমর্থন। সাংগঠনিকভাবে আমাদের দলকে শক্তিশালী করতে আরো জনমত সৃষ্টি করতে হবে। যেন আমাদের চলার পথে যত বাধাই আসুক অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। গতকাল শুক্রবার বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে চারটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও ছয়টা থেকে সাতটা পর্যন্ত কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী সংসদের অধিকাংশ সদস্যই অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের কিছুলোক থাকে যাদের কোন কিছুই ভালো লাগে না। এই যে আমরা অর্থনৈতিকভাবে যতদূরই আগাই, কিছু লোক সবসময় এটাকে ভিন্ন চোখের দেখা তাদের অভ্যাস। এরা আসলে কখনও গণতান্ত্রিক ধারাটা চায় না। গণতান্ত্রিক ধারাটা হলে আমার মনে হয় তাদের যেন দম ঘটে। এমন একটা ভাব তাদের। তাদের কাছে মনে হয় যেন অস্বাভাবিক কিছু হলে তাদের খুব দাম বাড়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।

 আমরা অবহেলা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করি না। আমরা মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে, মানুষের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের কল্যাণে ও উন্নয়নে কাজ করা এই নীতি নিয়েই আমরা কাজ করি বলেই আজকে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম। তিনি বলেন, এখন বৃষ্টি হচ্ছে, বন্যা হচ্ছে, কোথাও নদী ভাঙ্গন হতে পারে বা পাহাড়ে ধ্বস নামতে পারে। আমরা কিন্তু প্রতিনিয়ত সারাদেশে কোথায় কী ঘটছে খবর নিচ্ছি এবং সেখানে যার যা দায়িত্ব সেটা দেওয়া আছে। তারা সঙ্গে সঙ্গে যার যা দায়িত্ব সেটা পালন করে যাচ্ছে। এখনে এতটুকু কোন শৈথিল্য নাই। কারণ তাদের সব কাজ আমাকে সাথে সাথে ম্যাসেজ দিয়ে জানাতে হয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় বিএনপি সরকারে একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ৯১ এর ঘুর্ণিঝড়, তখনতো বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। তারা জানেই না এত বড় একটা ঘূর্ণিঝড় হয়েছে, এত মানুষ মারা গেছে। পার্লামেন্টে যখন আমি বললাম, এতবড় ঘূর্নিঝড় হযেছে, এত মানুষ মারা গেছে, তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পার্লামেন্টে বলে দিল ‘যত মানুষ মরার কথা ছিল তত মানুষ মরে নাই।’ তখন আমি জিজ্ঞেস করতে বাধ্য হলাম যে, ‘কত মানুষ মরলে আপনার তত মানুষ হবে বলেন’-এছাড়া বলার মত কিছু ছিল না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবেও জনগণের পাশে থাকে। অতীতেও ছিলো।
 
আমরা আমাদের দেশের উন্নয়নের ধারাটা কিন্তু ধীরে ধীরে অব্যাহত রেখেছি। এই ১০ বছরে আমরা কিন্তু হোচট খাইনি কিংবা পিছিয়ে যাই নি, আবার হঠাৎ করেও লাফ দিইনি। আমরা খুব স্থিরভাবে দেশটাকে ধাপে ধাপে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আমরা আরো সামনে যেতে চাই। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চাই। সে পরিকল্পনা আমাদের আছে। উন্নয়নের এই যাত্রাপথের নানা বাঁধা বিপত্তির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের এই চলার পথ কিন্তু খুব সহজ ছিল না। প্রতি পদে পদে বাঁধা, অগ্নি সন্ত্রাস, খুন, নির্যাতন অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তারপরেও আমরা কিন্তু এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক শক্তি, সাংগঠনিক শক্তি ও জনগণের সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আমি ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে; আজকে বাংলাদেশটাকে আমরা সরকার গঠন করে এগিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছি; সেখানে মূল শক্তিটাই ছিল দেশের জনগণ, তাদের সমর্থন। আর অবশ্যই মহান আল্লাহর একটা রহমত ছিল। সেজন্যই বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পেরেছে। তিনি বলেন, উন্নয়নে সফলতা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। সরকার গঠনের আগে আওয়ামী লীগের কিছু পরিকল্পনা ছিল দেশকে নিয়ে।

 সেই কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের নিজেদের একটা চিন্তাভাবনা, পরিকল্পনা ছিল। আমরা সরকারে আসলে কী করব? কোথায় যাব? সেগুলোর সবকিছু মোটামুটি একটা তৈরি করা ছিল বলেই আমরা সরকারে আসার পর আমাদের কাজগুলো করতে পেরেছি। যার কারণে দেশটা আজকে এতদূরে আনতে পেরেছি। আগামী দিনে দেশকে আমরা কোথায় নিয়ে যাব? সে পরিকল্পনাও আমাদের আছে। সেটা ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছি। ভবিষ্যৎ উন্নন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করা, জনমত সৃষ্টি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন শেখ হাসিনা। এজন্য দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, উপদেষ্টারা আমাদের ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্কের’ মত। আপনাদের সকলকে সক্রিয় হতে হবে। আমাদের বিভিন্ন উপ-কমিটি করা আছে। আপনারা মিটিং, সেমিনার করছেন। সেটা অব্যাহত রাখেন।