তোমরা হামার ভিটাবাড়ি বাঁচান

 তোমরা হামার ভিটাবাড়ি বাঁচান

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : তোমরা হামার ভিটাবাড়ি বাঁচান বাবা। কোনদ্দিন বা বাড়ি ঘরের স্যাতে হামরাও শ্যাষ হয়া যাইছোল। রাইতোত ঘুম হয় না হামার, মনে হয় কখন যে নদী হামাক খায়ছোল। এভাবেই কথাগুলো বলেন উপজেলা আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর শাইলবাড়ী গ্রামের চিকলী নদীর তীরে বসবাসরত শাহীদা বেওয়া (৪২)। তিনি আরো বলেন,  নদী ভাঙনের হাত থাকি হামাক তোমরা মুখো বাঁচান মোর সন্তানের ঘরকও বাঁচান। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে তিনটি নদী প্রবাহিত। তবে বিশেষ করে সর্বনাশী যমুনেশ্বরী ও চিকলী নদীর ভাঙন মানুষের যেভাবে সর্বনাশ ডেকে এনেছে তা ভাবতে গেলে আজও নদীর তীরবর্তী বসবাসরত মানুষের মন সিউরে ওঠে। সর্বনাশী যমুনেশ্বরী ও চিকলী নদী গত কয়েক বছর থেকে বর্ষার মৌসুমে মানুষের বসতভিট, চলাচলের রাস্তা-ঘাট, মসজিদ-মন্দির থেকে শুরু করে অনেক মূল্যবান আবাদী জমির ফসল রাক্ষসের মত গিলে খেয়েছে।  উপজেলায় বর্ষার মৌসুমে যমুনেশ্বরী, চিকলী ও খারুভাজ এই তিনটি নদীর ভয়াবহ ভাঙনের ফলে মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়েছে।

জানা গেছে, এ উপজেলায় নদীর আয়তন হচ্ছে ২৫০ একর। আর সামান্য আয়তনের মধ্যে চর অনাবাদী হয়ে পড়ে আছে। নদী ভাঙনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা সরকার না করায় প্রতি বছর বর্ষায় নতুন করে আবাদী জমি ঘরবাড়ি, দালান কোঠাসহ অনেক কিছু হারিয়ে দিন দিন মানুষ ভূমিহীন হয়ে পড়েছে। তাই তারাগঞ্জ উপজেলার নদী অঞ্চলের মানুষ বিশেষ করে যমুনেশ্বরী ও চিকলী নদীর ভাঙনের প্রতিকার হিসাবে এখানে খুব শিগগিরই বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। বুধবার সরেজমিনে ভাঙ্গন এলাকায় গেলে দেখা যায়, চিকলী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা ভীমপুর শাইলবাড়ী গ্রামের রাশেদা (৪২), ছাবেদুল ইসলাম, জাবেদুল (৪০), রহিদুল (৪৬), শফিকুল (৪৮), মহিজ উদ্দিন (৪৯), শহিদুল (৩৮), ফেরদৌস আলী (৩৫), আমিনুল (৩৬), জব্বার (৮৫) আব্দুল সাত্তার (৭০), আব্দুল হালিমের (৩৩) বসতভিটা রাক্ষুসে চিকলী নদীর মুখে পড়েছে। যেকোন সময় বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

 এছাড়া শাইলবাড়ী মাদ্রাসা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি মসজিদ ও ইদগাঁ মাঠ ভাঙ্গনের কবলে রয়েছে। এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন বলেন, নদী ভাঙ্গন রোধ করতে উপজেলার বিভিন্ন সভায় স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেছি। তারা ভাঙ্গন এলাকাগুলোতে বাধ নির্মাণের অশ্বাস দিয়েছেন।এ ব্যাপারে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণ কুমার সরকার বলেন, ভাঙ্গনের স্থানগুলো পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানাতে হবে। তা ছাড়া আমার কোন কিছু করার নেই।