ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিশ্চিত : আটক-২

তারাগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা

 তারাগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের তারাগঞ্জে ১৩ বছরের কিশোরী স্বপ্না গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেনি। ওই কিশোরীকে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের এমন রিপোর্ট পুলিশের কাছে এসেছে। এ ঘটনায় পুনরায় ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে থানায় গত বুধবার নারী ও শিশু দমন আইনে মামলা করেছেন। কিশোরীর মামা ও খালাকে পুলিশ আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর জয়বাংলা গ্রামের ওমর আলীর মেয়ে শাহনাজ বেগম (স্বামী পরিত্যক্তা) দীর্ঘদিন যাবত ঢাকার নারায়নগঞ্জ এলাকায় একটি গার্মেন্টসে কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। তার মেয়ে স্বপ্না আক্তার (১৩) নানা বাড়ি জয়বাংলা গ্রামে থাকতো। ওই কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো। কিন্তু হঠাৎ চলতি বছরের ১৪ মার্চ শাহনাজের ছোটভাই আজাহারুল ইসলাম রিয়েল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে জানায় স্বপ্না গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মেয়ের এমন মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকা থেকে মা শাহনাজ পরের দিন বাবার বাড়িতে ছুটে আসেন। এসময় কিশোরীর মায়ের পরিবারের লোকজন ঘটনাটিকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে কিশোরী জ্বিনধরা, বোকাসহ বিভিন্ন কথা সাংবাদিকসহ সবাইকে বলেন। ওইদিন স্বপ্নার নানী আলেমা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর ওই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত মামলা হয় এবং ময়না তদন্তের জন্য কিশোরীর লাশ মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় ১৫ মার্চ করতোয়া পত্রিকায় কিশোরীর আত্মহত্যা শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। কিন্তু গত মঙ্গলবার পুলিশের হাতে ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসে যে, ওই কিশোরী আত্মহত্যা করেনি। তাকে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেয়ে ঘটনাটি পুলিশ ওই কিশোরীর মা শাহনাজ বেগমকে অবগত করেন।
কিশোরীর মা শাহনাজ বেগম বলেন, আমি স্বজন বুঝিনা, আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই আশীষ কুমার শীল বলেন, স্বপ্নার হত্যার বিষয়টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল। তবে স্বপ্নাকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করার মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়া গেছে। বাদী মামলা করার পর অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে সন্দেহভাজন তার মামা আজাহারুল ইসলাম রিয়েল ও খালা শাহিনাকে গ্রেফতার করা হয়।থানা অফিসার ইনচার্র্জ জিন্নাত আলী বলেন, আটককৃতদের বৃহস্পতিবার জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনাসহ অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।