পদ বাণিজ্যের অভিযোগ

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দল সভাপতির পদ স্থগিত

 ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দল সভাপতির পদ স্থগিত

জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রাজিয়া আলীমের বিরুদ্ধে পদ বাণিজ্য, সংগঠনের স্বার্থ পরিপন্থী কর্মকান্ডসহ নানাবিধ নীতি-নৈতিকতাহীন কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযোগসমূহের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা-উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত তার সাংগঠনিক পদও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। গত ১১ জুলাই মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই নোটিশ রাজিয়া আলীমকে পাঠানো হয়। মহিলা দল সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

রাজিয়া আলীমকে দেয়া নোটিশে বলা হয়েছে-‘দীর্ঘদিন যাবত আপনি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলের স্বার্থ পরিপন্থী কর্মকান্ড যেমন নেতা-কর্মীদের সাথে অশোভন আচরণ, অশালীন ভাষা ব্যবহার, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে যত্রতত্র কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, কর্মিদের নিকট থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে পদ বাণিজ্য, সভাপতি পদের অপব্যবহারসহ নানাবিধ নীতি-নৈতিকতাহীন কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছেন। এহেন কর্মকান্ড পরিত্যাগ করার জন্য আপনাকে বারংবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা সত্ত্বেও আপনি এসব কর্মকান্ড পরিহার করেননি। দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে আপনার এহেন কর্মকান্ডে সংগঠনের ভাবমূর্তি যথেষ্ট পরিমাণে ক্ষুন্ন হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

নোটিশে রাজিয়া আলীমকে সাতদিনের মধ্যে অভিযোগসমূহের ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি সন্তোষজনক উত্তর না পেলে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সংগঠনের বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, রাজিয়া আলীমকে সভাপতি এবং শামসুন নাহার বেগমকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠিত হয়। তারপর থেকে এ পর্যন্ত দক্ষিণের অধীন ২৬টি থানার মধ্যে ১২টি থানার কমিটি অনুমোদন করেছে মহানগর দক্ষিণ মহিলা দল। সর্বশেষ গত ১৪ জুলাই কদমতলী থানা মহিলা দলের কমিটি অনুমোদন করা হয়। মহিলা দল দক্ষিণের সভাপতির পদ স্থগিত থাকায় সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আসমা আফরিন এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুন নাহার বেগম ওই কমিটি অনুমোদন করেন।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের সভাপতি রাজিয়া আলীম দৈনিক করতোয়াকে বলেন, তাকে দেয়া শোকজের জবাব তিনি তিনদিনের মধ্যেই দিয়ে দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে পদ বাণিজ্যসহ অন্যান্য যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কমিটি গঠনে পদ বাণিজ্যের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এটি পুরোপুরি মিথ্যা এবং একেবারে অসম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনীতি করে যে সুনাম ও ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন তা ক্ষুণœ করার জন্যই এমনটি করা হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারলে তিনি পদ ছেড়ে দেবেন।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি মহাসচিব সবকিছু জানেন। তিনিসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং কয়েকজন ভাইস চেয়ারম্যানকেও শোকজের জবাবের কপি দিয়েছি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যে কমিটি দিয়ে গেছেন কেন্দ্রীয় মহিলা দল সেই কমিটি স্থগিত করতে পারে না বলেও দাবি করেন রাজিয়া আলীম।