ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার আগ্রাসন

 ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার আগ্রাসন

প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীতে মশাবাহিত সংক্রামক ব্যাধি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চলতি জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজধানীতে গড়ে প্রতিদিন কমপক্ষে সাতজন (চার ঘন্টায় একজন) ডেঙ্গু জ্বুরে আক্রান্ত হন। ১ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত ৫৫ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৩ জন চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানান, জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেহেতু ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া এডিস মশার কামড়ে হয়, তাই রোগের বিস্তার, লক্ষণাদি ও রোগটি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকলে এ রোগ থেকে অনেকাংশে মুক্ত থাকা সম্ভব। জ্বর আসলে চিকিৎসকরা শুধু প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অ্যান্টিবায়োটিক বা এসপিরিন জাতীয় ওষুধ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসকরা বলেন, এই সকল ওষুধ খেলে মৃত্যু ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। টানা ৪-৫ দিন জ্বর না কমলে কিংবা শরীরে উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে প্রচন্ড ব্যথা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই ধরনের উপসর্গই ডেঙ্গু কিংবা চিকনগুনিয়া জ্বরের। ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার জীবাণু এডিস মশা তারা বাহিত হয়। মশাটি সাধারণত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থির এবং স্বল্প গভীর জলাধারে বংশ বিস্তার করে। এ ছাড়া বাসাবাড়ি ও আঙ্গিনায় জমে থাকা পরিষ্কার পানি, যেমন ফুলের টব, এয়ারকুলার বা ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানি, ফেলে দেওয়া ডাব বা নারিকেলের খোসা, টিনের কনটেইনার, গাড়ির টায়ার ইত্যাদির মধ্যে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশ বিস্তার করে। এই রোগ প্রতিরোধে এডিস মশার বংশ বিস্তার নির্মূলের কোনো বিকল্প নেই। মশা নিধন কার্যক্রম গতিশীল ও প্রশ্নমুক্ত করার দায়-দায়িত্ব যাদের, তাদের জবাবদিহিতা-দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাও দরকার।