ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব

 ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব

এডিস মশার কারণে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয় মানুষ। এই দুই জ্বরের কোনো প্রতিষেধক নেই। এ কারণে তা থেকে রেহাই পেতে হলে সতর্কতা অবলম্বনের কোনো বিকল্প নেই। এডিস মশা ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার জীবাণু বহন করে। নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদ, পরিত্যক্ত গাড়ির টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, বালতি, ফুলের টব, স্যাঁত স্যাঁতে মেঝেতে এডিস মশার বংশ বিস্তারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু ও তাপমাত্রার পরিবর্তন এডিস মশার বংশ বিস্তারে প্রভাব রাখছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে সাত হাজারের বেশি ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের এর মধ্যে নয় জনের বয়সই ১২ বছরের কম। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা বলছেন, গত পনের বছরের মধ্যে এবারই আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।

ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে অযৌক্তিক ভীতিতে আতঙ্কিত না হয়ে জ্বর যাতে সহনীয় পর্যায়ে থাকে সে চেষ্টা করতে হবে। পরিমিত পানি পানে উদ্যোগী হতে হবে। গুরুতর অসুস্থ বোধ হলে হাসপাতালে ভর্তি বা চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হতে হবে। এডিস মশা বন জঙ্গলে নয়, মানুষের বাসগৃহেই আস্তানা গাড়ে। ডেঙ্গু-চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে মশার বংশ বিস্তার রোধ করা। মশার উৎস তৈরি করা থেকে যেমন বিরত থাকতে হবে, তেমনি সে রকম উৎস থাকলে নিজ উদ্যোগে তা ধ্বংস করতে হবে। মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থা যেমন সহজলভ্য করতে হবে, তেমনি বাড়াতে হবে জনসচেতনতাও। শেষোক্ত ক্ষেত্রে গাফলতি থাকায় এডিস মশার আগ্রাসন বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি মনিটর করতে হবে এবং ডেঙ্গু-চিকনগুনিয়া ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার সব রকম ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। মশা নিধন কার্যক্রম গতিশীল ও প্রশ্নমুক্ত করার দায়-দায়িত্ব যাদের, তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও দরকার। এ মশার প্রজনন থামিয়ে দিতে হবে।