ট্রাকে পিষ্ট ঘুমন্ত ১৩ প্রাণ

 ট্রাকে পিষ্ট ঘুমন্ত ১৩ প্রাণ

সড়ক দুর্ঘটনা আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও থেকে খবর আসে। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোথাও সড়ক চলাচলে কোনো শৃঙ্খলা আছে বলে মনে হয় না। কুমিল্লার চৌদ্দ গ্রামে ইট ভাটার মেসে কয়লা বোঝাই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘুমন্ত অবস্থায় নিহত হন ১৩ শ্রমিক। তাদের সবার বাড়ি নীলফামারী জেলার জলঢাকায়। এরা সেখানে ইট ভাটায় কাজ করতো। এক সঙ্গে এতজন শ্রমিকের এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো উপজেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনহারাদের আর্তনাদে চোখের পানি আটকে রাখতে পারছেন না প্রতিবেশিরা। প্রায় সারা বাংলাদেশে গত বছর ৫ হাজার ৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, এতে মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ২২১ জনের এমন চিত্রই উঠে এসেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পরিসংখ্যানে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৪৬৬ জন। প্রশ্ন হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনার পর কেবল আহাজারি ও আফসোসই কি আমাদের জন্য একমাত্র প্রতিকার ? প্রায় প্রতিদিনই এভাবে সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের পরিবার-পরিজনদের কান্না কেবল নয়, পরিবারের সদস্যকে কিংবা নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়ে সারাজীবন কতজন গুমরে গুমরে কাঁদে এবং জীবনের দায় বহন করে বেঁচে থাকে! দিন দিন বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা এবং নাগরিকদের চলাচল। কিন্তু সে অনুপাতে সড়কপথের নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব হয়নি। তার খেসারত দিতে হচ্ছে মূল্যবান জানমালের বিনিময়ে। আমরা মনে করি দেশ বিস্তৃত সড়ক পথকে নিরাপদ করে মৃত্যুর মিছিল থামাতে হলে সার্বিক সতর্কতা ও নজরদারি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক দুর্ঘটনারোধে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নেবে-এটাই প্রত্যাশা।