ট্যানারি শিল্পের উন্নয়ন

 ট্যানারি শিল্পের উন্নয়ন

ঈদ পরবর্তী বাংলাদেশে চামড়া নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তা আমাদের কাম্য ছিল না। এ বছর কোরবানির ঈদের সময় চামড়া কেনা নিয়ে যা হয়েছে তার নজির বাংলাদেশে কেন, কোনো দেশেই নেই। মূল্যবান চামড়া মানুষ রাস্তার পাশে ফেলে  দিতে কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলতে বাধ্য হয়েছে। আমরা মনে করি, সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চামড়া না কেনার যে প্রতিযোগিতা চলেছিল তাতে করে এ শিল্পে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পের যে প্রতিযোগিতাপূর্ণ অবস্থান সেটা বাংলাদেশ সহসাই খুইয়ে  বসতে পারে। আমাদের দেখতে হবে, ওই চক্রটির প্রভাবে দেশের চামড়া শিল্পে এমন পরিণতি ডেকে আনুক, সেটা জেনে -বুঝে হোক অথবা না জেনে বুঝে হোক, সরকারের কোনো মহল তাকে প্রশ্রয় দেয় কি না। তিন দশকের চেষ্টায় ট্যানারি কারখানাগুলো ঢাকার হাজারিবাগ থেকে সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে স্থানান্তর করা গেলেও এখনো সেটিকে পুরোপুরি চালু করা যায়নি। ১৬ বছরে চারদফা সময় এবং ছয়গুণের বেশি বরাদ্দ বাড়িয়েও এখানকার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া পাওনা টাকার ব্যাপারে এফবিসিসিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চামড়া শিল্প দেশের সম্ভাবনাময় একটি শিল্প আর এটাকে এগিয়ে নিতে হবে সংশ্লিষ্টদেরকেই। সঙ্গত কারণেই কাঁচা চামড়া রপ্তানির বিষয়টি আমলে নিতে হবে। আমরা চাই, অবিলম্বে সাভারে সিইটিপির কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি চামড়া খাতকে গতিশীল করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং চামড়া সংক্রান্ত সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার বিশ্লেষণ করে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত হোক- এমনটিই কাম্য।