ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জীবন

 ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জীবন

শিশুদের নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা দান ও মৌলিক অধিকার রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিশুরা যদি জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে কঠিন পরিশ্রম করতে বাধ্য হয়, তবে সে পরিস্থিতি একটি রাষ্ট্রের জন্য নি:সন্দেহে উদ্বেগজনক। আমরা মনে করি, এ রকম পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব শুধু বর্তমান সময়ের জন্যই নয়, বরং আগামীর জন্যও অশনি সংকেত বহন করে। যা থেকে উত্তরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। প্রসঙ্গত এটা বলা দরকার, সরকার ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি বলেই জানা গেছে এবং ইতিমধ্যে সরকার এটাও বলেছে যে, ২০২৫ সালের মধ্যে সব ধরনের শিশুশ্রম বন্ধ করবে। কিন্তু শিশুশ্রম নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা মনে করছেন সরকারের জন্য এই লক্ষ্য অর্জনও কঠিন হবে। কেননা পরিকল্পনায় ঘাটতি আছে। ফলে এটা মনে করা যায়, যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শিশু শ্রম নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে সরকারকেই। যেন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হওয়া সম্ভব হয়।

আমরা জানি, সরকার ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১৩৮ ও ১৮২ নাম্বার সনদে স্বাক্ষর করেছে। অথচ বাস্তবতা হলো, বহু শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত। তাই দারিদ্র্যের কাছে যখন প্রতিনিয়তই উপেক্ষিত হচ্ছে শিশু আইন, তখন তা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য। সেভ দ্য চিলড্রেনের অঙ্গ সংগঠন কর্মজীবী শিশু সংগঠন প্রদীপন ও আরো কয়েকটি এনজিওর পুরানো এক জরিপে দেখা যায়, দেশে প্রায় ৭০ লাখ শিশু শ্রমে নিয়োজিত। শিশুদের বেড়ে ওঠা নিরাপদ না করতে পারলে কোনো অর্জনই সফলতা বয়ে আনবে না। তাই ব্যাপক পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণা সাপেক্ষে শিশু শ্রম নিরসনসহ শিশুর সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এমনটিই কাম্য। আজকের শিশু দেশের আগামীর ভবিষ্যত। তাদের রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট মহল তৎপর হবে- এ প্রত্যাশা আমাদের।