জিহাদের ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় অবমাননার রুল হাই কোর্টের

 জিহাদের ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় অবমাননার রুল হাই কোর্টের

রাজধানীর শাহজাহানপুরে পাম্পের পাইপের মধ্যে পড়ে নিহত শিশু জিহাদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া বিষয়ে উচ্চ আদালতের আদেশ পালন না করায় রেলওয়ে এবং ফায়ার সার্ভিসের তিন কর্তার বিরুদ্ধে অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ দুই সপ্তাহের রুল জারি করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম। তিনি জানান, আদেশ পালনে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিলো রেলওয়ের মহাপরিচালক, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ও পরিচালককে (অপারেশনাল মেইটেন্যান্স)। কিন্তু নোটিশের জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করলে এ রুল জারি করেন আদালত। তিনি আরও জানান, ৯০ দিনের মধ্যে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের রায় ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। বিবাদীরা ২২ অক্টোবর ওই রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি তোলেন। সে হিসাবে ৯০ দিনের সময়সীমা পার হয়ে গেছে। এছাড়াও আপিল বিভাগে রায় স্থগিতের আবেদনেও সাড়া দেননি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এ কারণে এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বাসার কাছে শাজাহানপুর রেলওয়ে মাঠের পাম্পের পাইপে পড়ে যায় জিহাদ। প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর ২৭ ডিসেম্বর বিকেল তিনটার দিকে জিহাদকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ২৮ ডিসেম্বর জিহাদের পরিবারের জন্য ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে ‘চিল্ড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’র পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন। ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শিশু জিহাদের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ। রুলের শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করা হয়। যা গত বছরের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। রায়ে চার বছরের শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ১০ লাখ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষকে ১০ লাখ টাকা (মোট ২০ লাখ টাকা) ৯০ দিনের মধ্যে তার বাবা-মার কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।