জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

 জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ বছরের গ্রীষ্মে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা দেখা দিয়েছে। ঘাস জন্মাচ্ছে না আগের মতো। ইউরোপের অনেক কৃষকই এখন দুশ্চিন্তায় আছেন। তারা ভাবছেন, আসছে শীতে কী খাওয়াবেন গবাদি পশুগুলোকে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ভূ-মধ্যসাগরের দেশগুলো অনেক দিন ধরেই কম বৃষ্টিপাতের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়েছে। সেভাবেই বদল এসেছে কৃষি কাজ ও গবাদিপশু প্রতি পালনের পদ্ধতিতে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে কৃষকরা এখন গবাদি পশুকে খাওয়াতে না পেরে পাঠাচ্ছেন কসাইখানায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রায় সব দেশই কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুইডেনে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে দাবানল হতে দেখা গেছে। এর অন্যতম কারণ হলো এবারের গ্রীষ্মের উচ্চ তাপমাত্রা। দেশটির শস্য উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে। একই অবস্থা জার্মানিরও। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, সেখানকার প্রায় ২৫টি ফার্মের একটি ব্যবসায়িক ঝুঁকিতে রয়েছে।

অন্য বছর যে পরিমাণ শস্য উৎপাদিত  হয়, এবার তার চেয়ে ৪০ শতাংশ কম হওয়ার আশংকা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপের দেশগুলো এখন কৃষকের জন্য জরুরি সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছে। আশংকা করা হচ্ছে, খরার কারণে ইউরোপ জুড়ে দুগ্ধজাত পণ্যের শিল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিজনিত প্রাকৃতিক বিপর্যয় কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, কীভাবে প্রকৃতির বিচিত্র আচরণকে সামাল দেয়া যায় এ নিয়ে উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রপ্রধান, আবহাওয়াবিদ, প্রকৃতিবিদ ও পেশাজীবিরা। আমাদের দেশটিকে গত প্রায় ৪০ বছর যারা ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ’ বলে করুণার দৃষ্টিতে দেখত, আজ তাদের দেশেই বন্যা, খরা, প্রচন্ড মাত্রার ঘূর্ণিঝড় দেখা দিচ্ছে। সত্যিকার অর্থে বলা চলে, বর্তমানে আমরা সবাই এক উপদ্রুত পৃথিবীর বাসিন্দা। তাই এ সমস্যা মোকাবেলায় সহযোগিতার অঙ্গীকারে দৃঢ় থাকতে হবে ধনী গরিব সব দেশকেই।