জলবায়ু পরিবর্তনের অপপ্রভাব

 জলবায়ু পরিবর্তনের অপপ্রভাব

যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক নেচার পাবলিশিং গ্রুপের মাসিক সাময়িকী নেচার ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ নতুন এক গবেষণায় বলেছে, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার যদি শিল্পযুগের আগের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, তাহলে বিশ্বের ভূখন্ডের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা হারাবে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের হার কমিয়ে আনতে নানা দেশে সরকারিভাবে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন চলছে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তির শর্তগুলোও মেনে চলতে শুরু করেছে অনেক দেশ। সব মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এখনো আসেনি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে এক সময় পৃথিবীর এক চতুর্থাংশের বেশি ভূখন্ড শুকিয়ে খটখটে হয়ে যাবে। সারা পৃথিবীতেই আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সপ্তাহখানেক ধরে তীব্র শৈত্য প্রবাহ ও তুষারপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় রাজ্যগুলো। হিমাঙ্কের অনেক নিচে নেমে গেছে তাপমাত্রা। সেখানে তীব্র শৈত্য প্রবাহ ও তুষারপাতও লক্ষ্যণীয়।

 কানাডায়ও একই অবস্থা। স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পাওয়া ‘বোমা সাইক্লোন’ নামের তুষার ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ১৭ জনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে সমগ্র বাংলাদেশ। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকৃতির এ বিরূপ আচরণ আজকের নয়, গত কয়েক দশক ধরেই লক্ষ্যযোগ্য মাত্রায় তা জানান দিচ্ছে। উন্নত দেশগুলো বেশি কার্বন নিঃসরণ করে সারা পৃথিবীর জন্যই হুমকি তৈরী করছে। জাতিসংঘকে সোচ্চার হতে হবে একটি বৈশ্বিক ঐকমত্যের জন্য। আসন্ন এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বসম্প্রদায়কেও এগিয়ে আসতে হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের তৎপরতার পাশাপাশি সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।