চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু

 চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু

বাংলা, বাঙালি ও বাংলাদেশের সঙ্গে অভিন্ন সত্ত্বায় পরিণত হওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজ শততম জন্ম দিন। বাঙালি সত্তার অধিকারী প্রত্যেকের জন্য দিনটি আনন্দের ও উৎসবের। জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের ১৯৫টি দেশে পালিত হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী। সরকার এ বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করে ব্যাপক পরিসরে উদযাপিত হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে মুজিববর্ষ উদযাপন করছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেসকো। আর ইউনেসকো এই যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বিশ্ব নেতা বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন আরও ব্যাপক পরিসরে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ছড়িয়ে পড়ছে। বাঙালি জাতির জন্য এ আয়োজন অত্যন্ত গৌরবের। ২০২০ এবং ২০২১ এ দুটি সালই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাপী মুজিববর্ষ উদযাপন হওয়ার পরের বছরই আমরা উদযাপন করব আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের সূবর্ণ জয়ন্তী উৎসব। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে একটি পতাকা দিয়েছেন, একটি স্বাধীন ভূ-খন্ড দিয়েছেন এবং বিশ্ব সভায় বাঙালি জাতিকে মর্যাদার আসনে নিয়ে গেছেন।

 বঙ্গবন্ধু দেশগড়ার কাজে খুব বেশি সময় হাতে পাননি। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির মদদে কিছু বিশ্বাসঘাতক তাকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। জাতির মুখে কালিমা লেপন করেছিল। বিদেশে থাকায় এই হত্যাকান্ড থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন তার দুই কন্যা। আমাদের সৌভাগ্য, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা সেদিন নিজের জীবনের মায়া না করে স্বাধীনতার অর্জনগুলো রক্ষায় এগিয়ে এসেছিলেন। দেশকে আবার বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথে এগিয়ে নিতে প্রাণপণ লড়াই করে চলেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের নেতৃত্ব দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশকে উন্নয়নের ধারায় নিয়ে এসেছে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার হাত ধরেই আমরা নিম্ন আয়ের দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে এসেছি। মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে আমাদের এগিয়ে যাবার পেছনে আওয়ামী লীগ সরকার ঘোষণা দিয়েছিল ‘ভিশন-২০২১’ মিশন। সরকারের এই মিশনেরও সমাপ্তির বছর ২০২১। বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অবিচ্ছেদ্য সত্তা। হাজার বছরের বাঙালি জাতির ইতিহাসে তিনিই একটি স্বাধীন- সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্থপতি। বাঙালি জাতির পরিপূর্ণ আত্মপরিচয় নির্মাণ এবং বাংলাদেশের জন্ম তার অবিস্মরণীয় কীর্তি। একজন নেতা অপরিসীম সাহসিকতার দেশের লাঞ্ছিত বঞ্চিত কোটি মানুষের হৃদয়ে যেভাবে মুক্তির বাণী স্ফুরিত করেছিলেন। পৃথিবীর ইতিহাসে তা বিরল। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা। বাংলাদেশের জাতির পিতা। এ দেশের সর্বস্তরের মানুষের তথা আবালবৃদ্ধবণিতার ভালোবাসা হৃদয় উড়ার করা শ্রদ্ধা ও সম্মানে অভিষিক্ত। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন একটি শোষণহীন, বৈষম্যহীন উন্নত সমাজ গড়তে। একই সঙ্গে তিনি লালন করতেন উন্নত গণতান্ত্রিক চেতনা। তার এই আদর্শের আলোকেই গড়ে তুলতে হবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এই বাংলাদেশকে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী। তার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণেই তিনি স্বাক্ষর রেখেছিলেন তার এসব রাজনৈতিক আদর্শের। অসাম্প্রদায়িকতা সহ তার জীবনাদর্শকে ধারণ করেই এগিয়ে যেতে হবে  আমাদের। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকার দিনবদলের যে কর্মসূচি শুরু করেছে, দেশকে উন্নতির সোপানে পৌঁছে দিতে যেভাবে নিরলস কাজ করছে- তা অব্যাহত থাকবে। দেশের সব মানুষকে নিয়ে একটি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখতেন বঙ্গবন্ধু। তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন। আমরা চাই, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই সোনার বাংলা নির্মাণ হোক, সেই সঙ্গে জাতির পিতার আদর্শ অমলিন থাকুক প্রতিটি হৃদয়ে। আমরা বিশ্বাস করি বর্তমান সরকার দিন বদলের যে কর্মসূচি শুরু করেছে, দেশকে উন্নতির সোপানে পৌঁছে দিতে যেভাবে নিরলস কাজ করছে তা অব্যাহত থাকবে। মুজিব বর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের বুকে আমাদের অগ্রযাত্রা আরও স্পষ্ট এবং বেগবান হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিশ্বব্যাপী মুজিববর্ষ উদযাপন আমাদের গৌরবান্বিত করবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমাদের প্রতিদিনের প্রেরণার উৎস হোক।