চাল-গম সংগ্রহ নীতি

 চাল-গম সংগ্রহ নীতি

আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলেছে চাল-গম সংগ্রহের সরকারি কার্যক্রম। অনেক বছর ধরেই সরকার বোরো ও আমন মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহ করছে। এর দুটি লক্ষ্য- এক কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা : দুই. সরকার আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য শস্যের মজুদ রাখতে চায়। বাজারে চালের মূল্য আকস্মিক বেড়ে গেলে কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য কারণে ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন হলে এ মজুত কাজে লাগানো হয়। বলা যায়, খাদ্য শস্য সংগ্রহের এ ব্যবস্থা কিছ্টুা হলেও সফল। তবে ধান-চাল যাতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হয় সেদিকে নজর রাখা দরকার। তবে এ অভিযোগ নিয়মিতই ওঠে যে, সরকার খাদ্য শস্যের সংগ্রহমূল্য নির্ধারণের জন্য কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার মত যুক্তিই দিক না কেন, কৃষক-মজুরদের হাড় ভাঙা পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসল থেকে প্রকৃত লাভ ঘরে তোলে মধ্যস্বত্বভোগীরা।

তারা কৃষকদের কাছ থেকে মৌসুমের শুরুতে অপেক্ষাকৃত সস্তা দরে ধান কিনে নেয় এবং পরে সরকারের কাছে ভালো লাভ রেখে বিক্রি করে। বাজারদর সংগ্রহ মূল্য থেকে বেশি বেড়ে যায়, তখন তারা সরকারের কাছে আরও বেশি অর্থ পাওয়ার জন্য দেনদরবার করে এবং তাতে সফলও হয়। সরকারের আরও একটি বিষয় নজরে থাকে- শহরের সব ধরনের ক্রেতাগোষ্ঠীর জন্য চালের সহনীয় মূল্য বজায় রাখা। এতে প্রায়শই কৃষকদের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন মোটামুটি দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড়াতে শুরু করেছে। শহর ও গ্রাম সর্বত্রই বিপুল সংখ্যক মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। একই সঙ্গে কমছে দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী নারী-পুরুষের সংখ্যা। তদুপরি সমাজের এ অংশের জন্য সরকারের রয়েছে খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার একাধিক কর্মসূচি। খাদ্য শস্য সংগ্রহের অন্যতম লক্ষ্য থাকে এসব কর্মসূচির চাহিদা পূরণ। এ অবস্থায় কৃষকদের স্বার্থ আরও বেশি রক্ষার বিষয়ে সচেষ্ট হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। এ ছাড়াও বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়টিও কড়া নজরদারিতে রাখতে হবে।