চামড়ার দামে ধস

 চামড়ার দামে ধস

সিন্ডিকেটের কারসাজিতে গত কয়েক বছরের মতো এবারও চামড়ার দামে ধস নেমেছে। ৭০-৮০ হাজার টাকার কোরবানির গরুর চামড়া এবার বিক্রি হয়েছে ২০০-৩০০ টাকায়। ছাগলের চামড়া ১০-২০ টাকা। ঈদের আগে চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু একটি ঘোষিত প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে গরিবের হক লুটে নিয়েছে। কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কোরবানি দাতারা গরিব মিসকিনের মধ্যে বিলিয়ে থাকেন। এতিমখানাগুলো অনেকাংশে কোরবানি পশুর চামড়ার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পানির দর হওয়ায় কোরবানি দাতাদের মাঝে বিরাট ক্ষোভের সঞ্চার হয়। অনেকেই চামড়া বিক্রি না করে ফেলে দিয়েছেন। পকেটের টাকা থেকে সে অর্থ গরিব মিসকিনদের বিলিয়ে দেন। খবরে প্রকাশ মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় কোরবানির ৯০০ পশুর চামড়া পুঁতে ফেলা হয়েছে।

চামড়া বিক্রির জন্য দিনভর অপেক্ষা করেও বিক্রি করতে না পারায় এগুলো মাটিতে পোঁতা হয়। কোরবানির চামড়া বিক্রি করে যে দাম পাওয়া যায় তা মূলত গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়। এর সঙ্গে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি জড়িত। এ ধর্মীয় অনুভূতি কয়েক বছর হলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু কারসাজি করে দাম ফেলে দেওয়ায় কোরবানি দাতারা যে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তা সহজেই অনুমেয়। চামড়া নিয়ে এ ধরনের ঘটনা গত কয়েক বছর হলো দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এবার গরিবের হক নিয়ে যেভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, তা নৈতিকতার বিষয়টি যেমন সামনে চলে এসেছে, তেমনি সরকারের ভাবমূর্তিও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ঠকিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা এখন অস্বীকার করা যাবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এমন অসাধু প্রবণতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে- এমন অভিযোগ উঠলে, তা অস্বীকার করা যাবে না।