চামড়া পাচারের আশংকা

 চামড়া পাচারের আশংকা

আমাদের দেশে ব্যবসার ক্ষেত্রে সততা ও নৈতিকতার অভাব নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তার একটি হচ্ছে সিন্ডিকেট বা জোট গঠনের মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ঠকিয়ে অতিরিক্ত বা অনৈতিক মুনাফা করা। এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে এ দেশের চামড়া শিল্প। এ দেশে চামড়ার প্রধান জোগান পাওয়া যায় কোরবানির ঈদের সময়। বলা হয়ে থাকে সারা দেশে এ সময় প্রায় ৮০ লাখ থেকে এক কোটি পশু জবাই হয়। চামড়া ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজার দর ও লোকমানের অজুহাতে কোরবানির পশুর চামড়ার দর  কমিয়ে নির্ধারণে বাধ্য করেছে। গত কয়েক বছর ধরেই ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কাঁচা চামড়ার দর বাড়ায়নি। আর দাম না বাড়িয়ে বরং দাম আরও কমিয়ে দেওয়ার কারণেই চামড়া পাচারের সম্ভাবনা বেড়েছে। কোরবানির পশুর  চামড়ার মূল্য কোরবানি দাতারা গরিব-দুঃখির মাঝে বিলিয়ে দেন। কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে এসব চামড়া পানির দরে।

কোরবানি দাতাদের বিক্রি করতে হয়। বঞ্চিত হচ্ছে গরিব দুুস্থ মানুষ। কোরবানির চামড়ার একাংশ এতিমখানায় দান করা হয়। এ দানের ওপর দেশের এতিমখানাগুলো অনেকাংশে নির্ভরশীল। দম পড়ে যাওয়ায় তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা সহজে অনুমেয়। যে কারণ দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর চামড়ার কম দাম নির্ধারণ করে সেটি ঠিক নয় মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে সরকার ব্যবসায়ীদের স্বল্পসুদে ঋণ দেয়। তাই প্রতি বছর কাঁচা চামড়া কেনার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অর্থ সংকটের অজুহাত সম্পূর্ণ সঠিক নয়। এ ছাড়াও সাভারে চামড়া শিল্প নগরীতে প্লট ও অবকাঠামো নির্মাণ করে দিয়েছে। কাজেই লোকসানের অভিযোগ সঠিক নয়। সব পক্ষই যাতে সন্তুষ্ট থাকে, ন্যায্য মূল্য পায় এমন পরিবেশ ট্যানারি মালিকদেরই তৈরি করতে হবে। নইলে চামড়া পাচার রোধ করা যাবে না। ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ ও দেশের অর্থনীতি।